আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

‘আন্তর্জাতিকভাবে একাত্তরে গণহত্যার বিচার হওয়া উচিত’

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা
একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যার ঘটনাগুলোর বিচার আন্তর্জাতিকভাবে হওয়া উচিত বলে মনে করেন দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শুক্রবার ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনায় তারা এ মত দেন। খবর বিডিনিউজের। বাংলা একাডেমিতে ‘১৯৭১ : মুক্তিযুদ্ধ, গণহত্যা ও বিশ্ব’ শীর্ষক দুই দিনের এ সম্মেলনের আয়োজক ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভস ও জাদুঘর ট্রাস্ট। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সম্মেলন উদ্বোধন করে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, একাত্তরে যারা গণহত্যা চালিয়েছিল, শুধু দেশীয়ভাবেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও তাদের বিচারের জোরালো দাবি রাখে। এত বছর পরও আন্তর্জাতিকভাবে একাত্তরের গণহত্যার বিচারের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারাটা আমাদের জন্য একটি ব্যর্থতা। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না বলে মনে করেন মন্ত্রী। এর ভেতরেও অনেক অপশক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। সেটি দেখতে ও বুঝতে হবে। সে শক্তিগুলো প্রতিহত করা আমাদের এখন চ্যালেঞ্জ। যারা অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশ্বাস করেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবাধিকার বিশ্বাস করেন, তাদের ঐক্য হতে হবে। ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, আমরা গণহত্যা ও নির্যাতন নিয়ে কেন এত কথা বলি। মুক্তিযুদ্ধ হলো বিশাল ব্যাপ্তি। আমাদের ইতিহাসের ভারসাম্যহীনতার কারণ হলো এই যে, আমরা সবসময় বিজয়কে গুরুত্ব দিয়েছি। মানুষ বিজয়ের কথা কম মনে রাখেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গণহত্যা-নির্যাতন। মানুষ এ গণহত্যা-নির্যাতন মনে রাখেন, এটি মানুষের ধর্ম। তিনি বলেন, এ গণহত্যা সব সুপার পাওয়ার দেশ সমর্থন করেছিল, তারা ভাবেনি এ লুঙ্গিপরা-খালি গায়ের মানুষের জয় হবে। জয় হয়েছে এবং এটি মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু তারা গণহত্যার বিষয়টি চাপা দিতে চেয়েছিল এ কারণে যে, বাংলাদেশের গণহত্যা যদি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় তাহলে এ দায় আমেরিকা ও চীনকে নিতে হবে। এ কথাগুলো বলার সময় এসেছে। আমাদের দাবির ফলে সরকার ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস করেছে। এখন সময় এসেছে আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায় করার। ভারতীয় জাতীয় গবেষণা অধ্যাপক জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, এটি একটি বিচিত্র দেশ, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের তারাও যেমন এ দেশে আছেন, একইভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন তারাও এখন সক্রিয় আছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের আরও বেশি শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল। তাই আমি আশা করব, প্রতি বছর এ ধরনের সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভস ও জাদুঘরে উত্তরোত্তর তাদের সংগ্রহ বাড়িয়ে যাবে। এ সংগ্রহশালা আন্তর্জাতিক গুরুত্ব লাভ করবে। বেলজিয়ামের সমাজ কর্মী ও রাজনীতিক পাওলো কাসাকা বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের যে বিচার শুরু হয়েছে এটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। এটি স্বচ্ছতা ও বলিষ্ঠতার সঙ্গে বাংলাদেশ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা ও সহিংসতার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক থিজস বাউনেট। তিনি বলেন, বিংশ শতক ও একবিংশ শতকের এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণহত্যায় লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ছিল নিরস্ত্র ও সাধারণ মানুষ। ভারতের পশ্চিম বাংলা রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক কৌশিক বন্দোপাধ্যায় বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার পরও ভারতীয় ইতিহাসবিদদের গবেষণায় এ বিষয়টি অনেকটাই পশ্চাৎপদ। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা ও নির্যাতন নিয়ে বেশকিছু গবেষণা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, বেলজিয়াম, মিশর, নেদারল্যান্ডস, কম্বোডিয়াসহ আটটি দেশের ২৩ গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক যোগ দেন। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও চিত্রশিল্পী হাশেম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।