আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কানাডার সম্মানসূচক নাগরিকত্বও হারাতে যাচ্ছেন সু চি

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা
মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সু চি’র সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিল করতে যাচ্ছে কানাডা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার কানাডার পার্লামেন্টে অং সান সু চি’র সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় সু চি’র বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা। মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার চেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। একই কারণে ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন সু চি। কিন্তু রোহিঙ্গা নির্যাতনে চুপ থাকার দায়ে তার প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেয় বিশ্ব। বিবিসি ও আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে। গেল মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শীর্ষ ছয় জেনারেলকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ওই সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে নীরব ভূমিকায় থাকার জন্য সু চি’র সমালোচনাও করা হয়। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে একটি প্রাথমিক তদন্তও শুরু করেছে। সু চিকে কানাডাতে যে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বাতিলে পার্লামেন্ট প্রস্তাব ওঠার আগের দিন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানান, সু চিকে নাগরিকত্বের সম্মান জানানোর প্রয়োজন আর আছে কিনা, তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিলের পরবর্তী পদক্ষেপসমূহ কী হবে সে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত মাত্র ছয়জনকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়েছে কানাডা। ফলে এটা সু চি’র জন্য ছিল অত্যন্ত বিরল এক সম্মান। এর আগে অক্সফোর্ডসহ ব্রিটেনের কয়েকটি শহর তাকে দেওয়া সম্মাননা প্রত্যাহার করে নেয়। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এ অভিযানে হত্যা-নির্যাতন এড়াতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়েছে।