আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৯-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

উড়ন্ত সূচনা, মামুলি সংগ্রহ

স্পোর্টস রিপোর্টার
| প্রথম পাতা

এশিয়া কাপের ফাইনালে শুক্রবার ভারতের বিরুদ্ধে অনবদ্য সেঞ্চুরির পর লিটন দাসের উদযাপন ষ ক্রিকইনফো

অসাধারণ খেলেছেন লিটন দাস। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত সেরা ইনিংসটি জমিয়ে রেখেছিলেন যেন গতকালকের জন্য। ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন এ ওপেনার। ফাইনালে প্রথম বল থেকেই দুর্দান্ত খেলছিলেন লিটন। ড্রাইভ, পুল, ফ্লিক, সুইপ সব শটই অসীম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মারছিলেন তিনি। ভারতীয় বোলারদের ওপর এক রকম ঝড় বইয়ে দিয়ে ৩৩ বলে করেন হাফসেঞ্চুরি, যা ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে কোনো ব্যাটসম্যানের দ্বিতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। প্রথমটি ৩২ বলে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের। ওই ওভারেই একটি বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। তবে যুবেন্দ্র চেহেল ক্যাচ মিস করলে জীবন পান লিটন। তখনই ম্যাচের সেরা ছবিটি টিভি স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। ড্রেসিংরুম থেকে মাশরাফি ইঙ্গিতে বার্তা দিচ্ছেন অনুজকে, ‘বড় ইনিংস খেল। হৃদয় দিয়ে খেল।’ সেখানেই পাল্টে যান লিটন। এরপর বুঝে-শুনে খেলে পার হন সেঞ্চুরির কোটা। ১১৭ বলে ১২টি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো ১২১ রানের চোখধাঁধানো একটি ইনিংস ফাইনালে মুখরক্ষা করে বাংলাদেশের। লিটনের স্ট্যাম্পিংয়ের আউটটিও হয়েছে এক প্রহসন। ক্রিকেটে ফিফটি-ফিফটি চান্সের আউটগুলোয় ব্যাটসম্যানরাই সুবিধা পান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার স্ট্যাম্পিংয়ের সময় লিটনের পা দাগের ওপর থাকলেও তা আমলে নেননি। আল্ট্রা জুম করেও দেখেছেন দাগের ওপর ছিল লিটনের পা। কিন্তু সুবিধা লিটনকে না দিয়ে দিলেন ভারতকে। শেষ পর্যন্ত উড়ন্ত সূচনা করেও ৪৮.৩ ওভারে ২২২ রানে অলআউট হতে হয় মাশরাফিদের। টুর্নামেন্টে ফাইনালে এসে ওপেনিং জুটিতে রান পায় বাংলাদেশ। একেবারে রেকর্ড গড়া জুটি। নিয়মিত প্রথা ভেঙে গতকাল লিটনের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজকে নামিয়ে দেওয়া হয়। কাজ করে এ পরিকল্পনা। ক্যারিয়ারে প্রথম ওপেনিং করতে নেমে ৫৯ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলেন মিরাজ। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড জুটি গড়েন লিটনের সঙ্গে। গতকালের ১২০-ই ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৫ সালে তামিম-সৌম্যর ১০২ রান। এছাড়া ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম শতরানের ওপেনিং জুটি পায় বাংলাদেশ। এতসব অর্জন একদম ভেস্তে যায় মিডলঅর্ডারদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে। বাজে শট, উচ্চাভিলাষী শট ও রানআউটের কারণে লিটন-মিরাজের সাজানো ইনিংস একদম লন্ডভন্ড করে দেন ব্যাটসম্যানরা। শতরানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর যেন পথ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। এলবিডব্লিউ হয়ে ইমরুল কায়েসের আউটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ হারিয়ে যাওয়া। এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলে রিভিউ নেন ইমরুল। কিন্তু ইম্প্যাক্ট আম্পায়ার্স কল হওয়ায় ফিরে যেতে হয় তাকে। এরপর ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে ভালো করা ব্যাটসম্যান। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিনে দাঁড়াতে পারলেন না মুশফিকও। ৯ বলে ৫ রান করে ফিরে যান এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এরপর ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট মিঠুন। ২০ ওভারের মধ্যে বিনা উইকেটে ১২০ রানের ভালো শুরুর পর দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে আদতে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। তখনও সুযোগ ছিল ফিরে আসার। যদি দলের অপর সেরা ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ লিটনের সঙ্গে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নিতেন। কিন্তু পারলেন না তিনিও। ১৬ বলে ৪ রান করে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ১৮৮ রানে ইনিংসের সেরা তারকা ও ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র ভরসা লিটনও বিদায় নেন। এ ব্যাটসম্যানের বিদায়ে বাংলাদেশের ম্যাচে থাকার স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়।