আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

শাওন ও রূপার ডাবল

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

বিকেএসপির মামুন আলী ফিনিশ পয়েন্টে পা রাখার আগে বুকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন আগে। আর তাতেই মিলেছে ৩৪তম জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে দ্রুততম বালকের মুকুট। বালিকা বিভাগে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি সতীর্থ সুমাইয়া দেওয়ানকে; বিকেএসপির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মামুনের টাইমিং ১১.২০ সেকেন্ড। তবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি সুমাইয়াকে, খুব সহজেই দ্রুততম বালিকা খেতাব জিতেছেন। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পরশু ১০০ মিটার স্প্রিন্টে খুলনার শাওন দ্রুততম কিশোর হলেও বিকেএসপির শিক্ষার্থী রুপা খাতুন রেকর্ড গড়ে হয়েছিলেন কিশোরী বিভাগের দ্রুততম মানবী। কাল জিতেছেন ২০০ মিটার স্প্রিন্টের স্বর্ণও। এ ইভেন্টের কিশোর বিভাগেও ব্যত্যয় হয়নি; ১০০ মিটারের পর ২০০ মিটারেও স্বর্ণজয়ী খুলনার শাওন।
দুই বছর আগে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় অ্যাথলেটিকসে আসা শ্রমিক বাবার ছেলে শাওন। চরম অর্থ কষ্টে দুই বছর পড়ালেখা বন্ধ ছিল, দশম শ্রেণিতে ভর্তি হন দুই বছর পর। ভর্তি হয়েই কোচ সাহেব আলীর পরামর্শে আন্তঃস্কুল অ্যাথলেটিকসে অংশ নিয়ে ১০০ ও ২০০ মিটারে প্রথম হন। তখনই বাবা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘দেখ খেলে কোনো বাহিনীতে চাকরি করতে পারিস কিনা।’ সেই স্বপ্ন নিয়ে শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনীতে ট্রায়াল দেন, বিকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ট্র্যাকে ঝড় তুলে দ্রুততম কিশোর হয়েছিলেন, কাল ২০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম হয়ে জিতলেন ডাবল। কিশোর-কিশোরী ও বালক-বালিকা; চার বিভাগের তিনটিতেই দ্রুততম খেতাবজয়ী বিকেএসপির অ্যাথলেটদের। তবে এমন ফল প্রত্যাশিতই। কেননা, বিকেএসপিতে সারা বছর উন্নত অনুশীলনের সুযোগ পান অ্যাথলেটরা। আর মফস্বলের অ্যাথলেটরা ঢাকায় খেলতে আসে অনেকটা ‘ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ে’র মতো। স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা কর্মকর্তারা বলেকয়ে এক-দুইজনকে জাতীয় ও জুনিয়র মিটে খেলতে পাঠান ভোটাধিকার বাঁচিয়ে রাখতে।
১১.২০ সেকেন্ডে দ্রুততম বালকের খেতাব জেতেন বিকেএসপির নবম শ্রেণির ছাত্র মামুন আলী। মাত্র এক বছরের অনুশীলনে সেরা হয়েছেন কুষ্টিয়ার এ ছেলে। অ্যাথলেটিকসে আসার আগে চার মাস সুইমিং করেছে সে। অ্যাথলেট হলেও তার প্রিয় সাঁতার! ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ও বাটারফ্লাই পছন্দের দুটি ইভেন্ট। কিন্তু বিকেএসপির কোচদের কাছে মনে হয়েছে, মামুন অ্যাথলেটিকসেই ফিট, প্রমাণ দিলেনও যেন তিনি কাল। মামুনের কথায়, ‘স্যারদের (বিকেএসপির কোচেরা) বিশ্বাস রাখতে পেরেছিÑ এতেই আমি খুব খুশি।’ ভবিষ্যতের কথা জানালেন মামুন, ‘ভালোমানের অ্যাথলেট হতে চাই। এসএ গেমসে দেশের জন্য স্বর্ণপদক জিততে চাই।’ আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছেন সুমাইয়া। গেল বছর এ মিটে ২০০ মিটারে স্বর্ণ ও ৪০০ মিটারে রুপা জিতেছিলেন। কিন্তু ১০০ মিটারে অংশই নেননি। এবার তিনটি ইভেন্টেই স্বর্ণপদক জিতে নিয়েছেন মানিকগঞ্জের এ মেয়ে। বিকেএসপিতে দেড় বছর ধরে অনুশীলন করছেন। ভবিষ্যতে স্বপ্ন দেখেন দেশকে কিছু দেওয়ার। সুমাইয়ার কথায়, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক জিতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চাই।’