আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কেন শেষ ওভারে রিয়াদের হাতে বল!

‘৪৬ নম্বর ওভার থেকে আমি রুবেল ও মোস্তাফিজকে শেষ পর্যন্ত বোলিং করাতে পারতাম। তাহলে হয়তো ভারতের কাজটা অনেক কঠিন হতো।’

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

 

শুক্রবার এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে একেবারে শেষ বলে গিয়ে ৩ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে সমীকরণটা যখন ৬ বলে ৬ দরকার তখন প্রথমে সৌম্য সরকারকে দিয়ে করানোর কথা ছিল। বল হাতে তৈরিও হয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু হঠাৎ অধিনায়ক সিদ্ধান্ত পাল্টালেন। বল তুলে দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। কিন্তু মিরাজের ওভার বাকি থাকলেও কেন রিয়াদকে শেষ ওভারের দায়িত্ব দিলেন অধিনায়ক? ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রিয়াদের হাতে বল তুলে দেওয়ার সেই কারণ জানালেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে আমি রিয়াদের কথা ভেবেছি কারণ সে অনেক অভিজ্ঞ। বিপিএলেও শেষ ওভার করে সে দেখিয়েছে। বল হাতে দিয়ে রিয়াদকে বলছিলাম, ওরা মারতে যাবে। মারতে গেলে মিস হিট হতে পারে। বিশেষ করে কুলদীপ মারার চেষ্টা করবে। যাদব ব্যাটসম্যান, সে তা করবে না। পঞ্চম বলটাই কিন্তু কুলদীপের ব্যাটে ইনসাইড এজ হয়েছিল। আসলে এমন পরিস্থিতিতে একটু লাকও লাগে।’
শেষ বলে যখন ১ বলে ১ দরকার তখন সুপার ওভারের সম্ভাবনা দাঁড়ায়। অধিনায়কেরও সেটা জানা ছিল। শেষ বলে ১ বল নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আসলে শেষ বলটা হয় ডট হতে হতো অথবা আউট। ও ইয়র্কারই করেছিল। কিন্তু বলটা প্যাডে পড়ে গেল। রিয়াদ ভালো করেছে। ওই অবস্থায়, মানে ৬ বলে ৬ রান লাগে, ওই রকম অবস্থায় ও ভালো ফাইট করেছে।’
তবে পুরো ম্যাচে স্পিনারদের থেকে আরও একটু ভালো আশা করেছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আসলে প্রথম ইনিংসে বল যেভাবে স্পিন করেছে, তাতে আমাদের স্পিনারদের আরও আশা করেছিলাম। পুরো টুর্নামেন্টে মিরাজ সেরা বোলার। রুবেল-মোস্তাফিজও ভালো করছে। আমরা মনে হয় অপু আরও ভালো করতে পারত। কিন্তু আপনি বোলারদের দোষ দিতে পারবেন না।’
তবে শেষ ওভারটা মোস্তাফিজ বা রুবেলকে দিয়ে করালে ফলটা অন্যরকমও হতে পারত। কিন্তু স্পিনাররা ভালো করেনি বলেই সেই সুযোগ ছিল না অধিনায়কের সামনে। এ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ওদের যখন সাড়ে ৫ রান করে লাগে, তখন আমি মিরাজ ও রিয়াদকে এনেছি। তখন কেউ যদি দুইটি ওভারও ভালো বোলিং করে দিত, তাহলে খুব ভালো হতো। একজন স্পিনার ভালো করলেও ৪৬ নম্বর ওভার থেকে আমি রুবেল ও মোস্তাফিজকে শেষ পর্যন্ত বোলিং করাতে পারতাম। তাহলে হয়তো ভারতের কাজটা অনেক কঠিন হতো।’ 
এশিয়া কাপে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত পৌঁছে ফাইনালে। কিন্তু ফাইনালে ভারত জয় পেয়েছে ৩ উইকেটে। আরেকটি ফাইনাল, বাংলাদেশের আরেকটি হৃদয়ভাঙা হার। সেই সফল মিশন শেষ হয়েছে শুক্রবার। দল স্টেডিয়াম ছেড়ে হোটেলে পৌঁছে গভীর রাতে। শনিবার দুবাই থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে রওনা হন মাশরাফিরা। বাংলাদেশে পৌঁছায় রাত ১১টা। 
দেশে ফিরে আপাতত বিশ্রামেই থাকবেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় ক্রিকেট লিগ শুরু হবে ১ অক্টোবর থেকে। জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার লিগের শুরু থেকেই থাকবে। এছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হবে ১০ অক্টোবর থেকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে এবং দুইটি টেস্ট খেলতে ১৬ অক্টোবর ঢাকায় আসবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। ২১ অক্টোবর দুই দলের প্রথম ওয়ানডে মিরপুরে।