আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি

রাবি প্রতিনিধি
| নগর মহানগর

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে মোনাজাত করেন -পিআইডি

রাষ্ট্রপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। একটি ছাড়া অন্যটি অচল। তাই গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে হলে দেশে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। আর সে নেতৃত্ব তৈরি হবে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই। এক্ষেত্রে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের কোনো স্থান থাকবে না। ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব থাকবে ছাত্রদের হাতে। লেজুড়বৃত্তি বা পরনির্ভরতার কোনো জায়গা থাকবে না। ছাত্র সমাজকেই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম সমাবর্তনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, একটি আদর্শ। আমি আশা করি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা তাদের গর্বিত উত্তরাধিকারের বিষয়টি মনে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রেখে যাবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকাল বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসহিষ্ণুতা, উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদের মতো নেতিবাচক কর্মকা- জাতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ করছে। আমি মনে করি, এর উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতি চর্চার অভাবে। জাতির অমিত শক্তি যুব সমাজ। সে শক্তি ও সম্ভাবনাকে দেশ গঠনের কাজে লাগাতে যুব সমাজকে অবশ্যই অপসংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন চিন্তার অধিকারী হতে হবে। মানবিক ও উদার হতে হবে। তা হলেই আমরা লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব এবং এর সুফল জাতির কাছে পৌঁছাতে পারব। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, অভিভাবক, ছাত্র সংগঠনসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান ও গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা এবং এগিয়ে চলার বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে, তাও নিশ্চিত করতে হবে। বাস্তবতার প্রয়োজনে দেশে আজ পাবলিক-প্রাইভেট মিলে দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। জনসংখ্যার অনুপাতে এ সংখ্যা হয়তো অধিক হবে না। কিন্তু উচ্চশিক্ষা যাতে সার্টিফিকেটসর্বস্ব না হয় কিংবা শিক্ষা যাতে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত না হয়, তা দেশ ও জাতির স্বার্থে সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এটি করতে না পারলে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়বে এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ব। গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমাদের আজকের এ অবস্থানে পৌঁছার পেছনে তোমাদের বাবা-মা, শিক্ষকম-লীসহ সমাজ, দেশ ও জনগণের বিপুল অবদান রয়েছে। তোমরা তাদের কাছে ঋণী। তোমরা সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তোমাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও কর্ম দিয়ে জাতির আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সব সময় নৈতিক মূল্যবোধ, বিবেক ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখবে। কখনও অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করবে না।
সমাবর্তন বক্তা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ইমেরিটাস প্রফেসর আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালগুলো বাইরের হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা দরকার। এজন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। একাডেমিক স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসনের ধারণা ও বাস্তবতা যেন ধীরে ধীরে স্মৃতির অন্তরালে চলে না যায়, তা আমার নবীন সহকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। জনস্বার্থে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হিতে যে কোনো মূল্যে আমাদের একাডেমিক স্বাধীনতা এবং স্বায়ত্তশাসনের নীতি ও চর্চাকে সমুন্নত রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, প্রোভিসি অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, রাজশাহীর সংসদ সদস্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রোভিসি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। বক্তব্য দেওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও সেলিনা হোসেনকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম সমাবর্তনে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার ১৪ জনকে স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সমাবর্তন শুরুর আগে রাবির ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক হলের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন রাষ্ট্রপতি।