আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

রংপুরে পরিত্যক্ত স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি

প্রাচীন মসজিদ ঘিরে কৌতূহল

আবদুর রহমান মিন্টু, রংপুর
| শেষ পাতা

ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ রংপুর। এ জেলায় রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্যের অনেক নির্দশন। তেমনই একটি স্থাপত্য আকন্দপাড়ার পুরানো মসজিদ। ছোট ছোট ইটের গাঁথুনিতে তৈরি মসজিদটির কারুকার্য চোখে ধরার মতো। সামান্য পরিমাণ জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এ মসজিদ। এর উত্তর-দক্ষিণে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি ও পূর্ব-পশ্চিমে ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি। দেওয়াল ১ ফুট ১১ ইঞ্চি চওড়া। আয়তনে এত ছোট মসজিদ দেশের আর কোথাও আছে কি না, তা অনেকেরই অজানা।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটির অবস্থান। শ্যামপুর থেকে এক কিলোমিটারের কম দূরত্বে গোপালপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের আকন্দপাড়ার নান্দিনার দীঘির পাড় থেকে মাত্র ৩০০ গজের মধ্যেই পুরানো এ মসজিদটি। গ্রামের মেঠোপথের পাশে ছোট একটি জায়গায় বাঁশের ঝাড়। মসজিদটি ওই বাঁশঝাড়ে বিরাট একটি বটবৃক্ষের লতাপাতা আর জঙ্গলের ভেতর। ভুতুড়ে পরিবেশে থাকা মসজিদটি এখন পরিত্যক্ত। কারুশিল্পে খচিত মসজিদের মিনারসহ ভেঙে পড়েছে এর অবকাঠামো। মসজিদ বেয়ে উঠেছে একটি বিরাট বটগাছ। এ বটবৃক্ষের ভারে খসে পড়েছে ইট। ভেঙে পড়েছে দক্ষিণের দেওয়ালটি। বর্তমানে মসজিদের কোল ঘেঁষে দুটি কবর রয়েছে। ছোট ছোট ইটের গাঁথুনিতে তৈরি প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন এ মসজিদ। অযতœ-অবহেলা আর সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় বর্তমানে মসজিদটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মসজিদটি দেখতে প্রায়ই বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে লোকজন আসেন। অনেকেই লেখালেখিও করছেন এটি সংরক্ষণে। এ নিয়ে কথা হয় স্থানীয় গবেষক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, এ মসজিদটি কারও মতে ২৫০ থেকে ৫০০ বছরের পুরানো হবে। এখানকার পূর্বপুরুষদের মতে, এ অঞ্চলে এত ছোট মসজিদ আর নেই। এর জমির পরিমাণ ও আকার-আয়তন খুবই কম। তিনি আরও জানান, মসজিদের উত্তর-দক্ষিণে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি ও পূর্ব-পশ্চিমে ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি। দেওয়াল ১ ফুট ১১ ইঞ্চি চওড়া। একটি প্রবেশপথ ও মেহরাব রয়েছে। মসজিদটি এতই ছোট যে এখানে ইমামসহ তিন থেকে চারজন নামাজ পড়তে পারতেন। মসজিদটির মিনার ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে মসজিদটিকে ঘিরে একটি বিরাট বটগাছ বেয়ে উঠেছে। প্রাচীন এ নিদর্শনটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ইতিহাসবিদ ও গবেষক খলিল বাবু মসজিদটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এটি সংরক্ষণে রংপুর বিভাগীয় প্রতœসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির আহমেদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের প্রাচীন স্থাপত্য, নিদর্শন ও ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। এ মসজিদটি পরিদর্শন করে আমরা প্রতœতত্ত্ব বিভাগকে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ নিতে আহ্বানও করেছিলাম। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আজিজার রহমান দাবি করেছেন, মসজিদটি সংস্কার করা হলে প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে। এ ব্যাপারে রংপুর জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. আবু সাঈদ ইনাম তানভিরুল ইসলাম জানান, প্রাচীন ওই মসজিদটির সংরক্ষণ ও সংস্কারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোহাম্মদ আহসানুল হক ডিউজ চৌধূরী বলেন, অতিদ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে প্রাচীন মসজিদটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।