আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

নতুন এলাকা অভয়ারণ্যভুক্ত

সুন্দরবনে জেলে বাওয়ালীদের প্রবেশ সংকুচিত হচ্ছে

খুলনা ব্যুরো
| শেষ পাতা

সুন্দরবনের সম্পদ আহরণে বাধ্যবাধকতার যেন শেষ নেই। একের পর এক নতুন নতুন এলাকা অভয়ারণ্যভুক্ত হওয়ায় সুন্দরবনে জেলে-বাওয়ালীদের প্রবেশও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল অনেক পেশাজীবী পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাধীনতা-উত্তরকালে সুন্দরবন থেকে গরান, হেতাল, গেওয়া, সুন্দরী, পশুর, ধুন্দল, গোলপাতা ও বাইন কাঠ কর্তন এবং মাছ, মধু, কাঁকড়া, হরিণ ও কুমির ধরার পারমিট প্রদান করত বনবিভাগ। আশির দশকে পশুর কাঠ, হরিণ ও কুমির ধরার পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। নব্বই দশকে সুন্দরী, গেওয়া ও হেতালের পারমিটও বন্ধ করে দেয় বনবিভাগ। ২০০৭ সালে সিডরের আঘাতে সুন্দরবন অনেকটা লন্ডভন্ড হয়ে পড়লে ওই বছর থেকে গরানের পারমিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু চালু থাকে গোলপাতা, মাছ, মধু ও কাঁকড়া আহরণের পারমিট প্রদান।

সূত্র মতে, ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে ১১০তম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করে। কটকা, কচিখালীকে সুন্দরবন পূর্ব অভয়ারণ্য, নীলকমল, হিরণ পয়েন্টকে দক্ষিণ অভয়ারণ্য এবং নোটাবেকি, মান্দারবাড়ী, পুষ্পকাটি বনাঞ্চলকে সুন্দরবন পশ্চিম অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা হয়। একই সঙ্গে অভয়ারণ্য এলাকায় সব সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ করে সরকার। ওইসময় বনের ২৫ শতাংশ জায়গা অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে ৬ হাজার ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগে ৫২ শতাংশ এবং পশ্চিম বন বিভাগে ৫৩ শতাংশ অভয়ারণ্য এলাকা করা হয়েছে। অচিরেই আরও কিছু এলাকা অভয়ারণ্যের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, এক দশক ধরে সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় কয়েকটি পশ্চিমা দাতা দেশ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে দাতারা বনের ওপর চাপ কমানো, বনের সম্পদ আহরণে কড়াকড়ি ও নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল, ইসলামিক রিলিফ, প্রদীপণ, জেজেএসসহ আরও কয়েকটি এনজিও সংস্থার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে জেলে-বাওয়ালীদের ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত করতে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল খুলনার কয়রা এলাকার কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মাছ ও কাঁকড়ার দাম বেশি হওয়ায় সুন্দরবনে আয়ের পরিমাণ অতীতের চেয়ে অনেক ভালো। এনজিওগুলো গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, সবজি ও মৎস্য চাষে জেলেদের ট্রেনিং করিয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে স্বাবলম্বী করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, মূলত সে আয়ের পরিমাণ অনেক কম। জেলে-বাওয়ালীদের দাবি, সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকা সীমিত করে অন্তত মাছ, মধু, কাঁকড়া, গরান ও গোলপাতার পারমিট চালু রাখা হোক। এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের ডিএফও মাহমুদুল হাসান বলেন, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ কারণে প্রচলিত নিয়মনীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। আর সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল পেশাজীবীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।