আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

বিশ্ব ইজতেমার আগে পরে জেলাভিত্তিক ইজতেমা নয়

কওমি ঘরানার আলেমদের ওয়াজাহাতি জোড়ে ঘোষণা

| শেষ পাতা

তাবলিগ জামাতের সংকট বিষয়ে কওমি ঘরানার আলেমদের ওয়াজাহাতি জোড় (স্পষ্টকরণ সভা) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বরের হারুন মোল্লা ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এ সভায় আগামী বছর তাবলিগের বিশ্ব ইজতেমার আগে ও পরে কোনো জেলাভিত্তিক ইজতেমা হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। তবে এ সভায় ভারতের মাওলানা সাদপন্থী আলেমদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

জানা গেছে, ওজাহাতি জোড়ে ৯টি ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে মাওলানা সাদকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ। মাওলানা সাদের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা যাবে না। কাকরাইল মসজিদের যেসব শুরা সদস্য মাওলানা সাদকে অনুসরণ করছেন, 

তারা শুরা সদস্য থাকবেন না। মাওলানা সাদ দারুল উলুম দেওবন্দের আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে আসতে পারবেন না। এ সময় দেশজুড়ে সাদপন্থীরা যাতে জেলাভিত্তিক ইজতেমা করে সংগঠিত হতে না পারে, সেজন্য ২০১৯ সালের ইজতেমার আগে ও পরে জেলাভিত্তিক ইজতেমা হবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। 
হেফাজত মহাসচিব বলেন, যারা সাদকে অনুসরণ করছেন তারা আসলে তার পূজা করছেন। এমন ব্যক্তিপূজা ইসলাম সমর্থন করে না। আমরা ব্যক্তিকে চাই না, মেহনত চাই। তাবলিগ জামাতের কর্মীদের হাতাহাতিতে না জড়াতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা ও তাবলিগ জামাতের স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাব। ওরা (সাদ অনুসারী) হাতাহাতি করলেও আপনারা (সাদ বিরোধী) হাতাহাতি করবেন না।
এ জোড়ে তাবলিগ কর্মী, হেজাজত কর্মী ছাড়াও মিরপুরের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দীন মোল্লা ও আসলামুল হক বক্তব্য রাখেন। ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম বলেন, আমাদের সরকার কওমি মাদ্রাসা ও আলেমদের প?ক্ষে। সরকার বিশৃঙ্খলাকারীদের স?ঙ্গে নেই। সবাই আলাপ-আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবেন। ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা বলেন, আমরা সবসময় চাই শান্তি। কাকরাইল মস?জিদকে দুই ভাগ করতে দেওয়া যাবে না, ইজতেমাও দুই ভাগ হবে না। 
জোড়ে কাকরাইল মারকাজের শুরা সদস্য মাওলানা যুবায়ের আহমদ, জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক, আরজাবাদ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, কাপাসিয়ার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, শাইখুল হাদিস মাওলানা সা?জিদুর রহমান, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আজহারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, তাবলিগের মুরব্বি ও ভারতের মাওলানা সাদের বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের তাবলিগ অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।