আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সম্ভাব্য ৮ প্রার্থী মাঠে

আ.লীগের কাঁধে ভর করতে চায় জাপা

আতিকুজ্জামান দিপু, পটুয়াখালী
| শেষ পাতা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ব্যানার, বিলবোর্ড, পোস্টারসহ বিভিন্নভাবে তারা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া শুভেচ্ছা বিনিময়, উঠোন বৈঠক এবং নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তারা প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। এখানে মোট আটজনÑ আওয়ামী লীগের চার, বিএনপির দুই, জাতীয় পার্টির এক ও সিপিবির একজন প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন। এবারও আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চাচ্ছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার।

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক এমপি ও  ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া; আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আফজাল হোসেন; সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য (বর্তমান মহিলা সংসদ সদস্যের স্বামী) অ্যাডভোকেট মো. সুলতান আহমেদ মৃধা; জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান মোহন; বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জেলা কমিটির সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি; জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বর্তমান এমপি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি কমরেড মোতালেব মোল্লা। 

পটুয়াখালী-১ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৮১৩ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪৫ এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৭ জন। এ আসনটি ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয়।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মো. সুলতান আহমেদ মৃধা বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে আমার ছেলে পলাশ মৃধাকে প্রাণ (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক) হারাতে হয়েছে। আমি ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু নেত্রীর নির্দেশে সরে দাঁড়াই। পটুয়াখালী সদর আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন দক্ষ, স্বচ্ছ ও কর্মঠ কর্মী দরকার। আর আমিই হচ্ছি নেত্রীর সেই দক্ষ, স্বচ্ছ ও কর্মঠ কর্মী। তাই আমি আশাবাদী এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন।   
সাবেক এমপি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আমি এ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলও করি। পরে নেত্রীর নির্দেশে আমার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিই। আমি আশা করি এবারের নির্বাচনেও নেত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। তারপরও নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন, আমি তার পক্ষেই কাজ করব। আমার বয়স হলেও দলের সব কাজই তো আমাকেই করতে হয়। রাজনৈতিক, সামাজিক সব সমস্যা আমাকেই সমাধান দিতে হয়। তখন তো কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।   
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, আমি এ আসন থেকে নির্বাচন করব বলেই ১০ বছর ধরে এলাকায় কাজ করছি। নেতৃত্বে যারা থাকেন, তারা সহজে পরিবর্তন মেনে নিতে পারেন না। কিন্তু জনগণ ও ভোটাররা পরিবর্তন চান। তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নতুন প্রার্থী দেখতে চান। তা ছাড়া নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়সেরও একটা বিষয় থাকে। দলের মধ্যে বয়স, মেধা ও দক্ষতার মূল্যায়ন অবশ্যই হবে। সে ক্ষেত্রে আমি আশা করি আগামী নির্বাচনে নেত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান মোহন বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কঠিন সময় হাল ধরেছি। পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোশারফ হোসেনের মৃত্যুতে এ পদটি শূন্য হয়। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ শূন্য পদে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পটুয়াখালীর জেলা পরিষদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে নেত্রীর কাছে আমি মনোনয়ন চাইব। আমার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রী আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান টোটন বলেন, পটুয়াখালী সদর আসনে আমাদের একমাত্র প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। এখানে তার বিকল্প প্রার্থী নেই এবং কেউ বিকল্প প্রার্থী হওয়ার কথা ভাবছেন না। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির একাংশের নেতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, আমি বিগত নির্বাচনেও (২০০৮ সালে) দলের মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে না দিয়ে বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে দল অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর মাশুলও দল ও দলের নেতাকর্মীদের দিতে হয়েছে। তাই দলের ভীত টিকিয়ে রাখতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সদর আসনে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।  
বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, এ আসন থেকে আমি নির্বাচন করব এটা চূড়ান্ত। তবে মহাজোট নাকি দলীয়ভাবে নির্বাচন করব, সেটা সময়ই বলে দেবে। আগাম তো আর তা বলা যাবে না। 
জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আবদুল মোতালেব মোল্লা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পটুয়াখালীতে আটদলীয় বাম জোটগতভাবে জেলার চারটি আসনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। জেলা পর্যায় থেকে পটুয়াখালী-১ আসনে আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য আমাদের কিছু দাবি রয়েছে।