আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প সুনামি : নিহত ৩৮৪

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় একটি হাসপাতালের বাইরে এভাবেই চিকিৎসা নিচ্ছেন আহতরা - সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত এনেছে। এর কিছুক্ষণ পরই সুলাওয়াসি দ্বীপের পালু শহরে সুনামি আঘাত। এতে বহু স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে। ৩৮৪ জন নিহত হয়েছে। সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত এবং বহু মানুষ আটকা পড়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

ভূমিকম্পের পর ১০ ফুট উঁচু ঢেউ সুলাওয়াসি দ্বীপের পালু শহরকে ভাসিয়ে নেয় বলে জানায় বিবিসি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাহাড়সম উঁচু ঢেউ যখন উপকূলে আঘাত হানে তখন ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’ উপলক্ষে অনেকেই সৈকতে জড়ো হয়েছিলেন। যাদের বেশিরভাগই নিজেদের প্রাণ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কেউ কেউ উঁচু গাছে চড়ে নিজেদের রক্ষা করেছেন। শনিবার সমুদ্র তট থেকে অনেক লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এদিন সকালেও পরাঘাতে সুলাওয়াসি দ্বীপ একাধিকবার কেঁপে উঠেছে। জাকার্তায় শনিবার সংবাদ সম্মেলনে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবির মুখপাত্র সুতোপো পুরও নুগরোহো বলেন, শুক্রবার ভূমিকম্পের পর যখন সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়, তখনও লোকজন সৈকতে তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই প্রকা- ঢেউ যখন উপকূলে আছড়ে পড়ে, তখন তারা আর দৌড়ে নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি।

পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় সুলাওয়াসি দ্বীপের পালু শহরের সৈকতে শত শত মানুষ শহরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিচ ফেস্টিভ্যালের’ প্রস্তুতি নিচ্ছিল। শুক্রবার রাতে ওই ফেস্টিভ্যাল শুরু হওয়ার কথা ছিল। ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতির পরিমাণ ‘অত্যন্ত মারাত্মক’ বর্ণনা করে নুগরোহো বলেন, পালুর বেশিরভাগ বাড়িঘর, হাসপাতাল, শপিংমল ও হোটেল ধসে গেছে। সুনামিতে একটি সেতু ভেঙে ভেসে গেছে এবং ভূমিধসে পালুর প্রধান মহাসড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতত্ত্ব সংস্থা বিএমকেজি ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করলেও ৩৪ মিনিট পর তা তুলে নেয় বলে জানায় রয়টার্স। যে কারণে দেশজুড়ে সংস্থাটির কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যে সময়ে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিলেন ওই সময়ের মধ্যেই তা উপকূলে আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে পালু শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। রাজধানী থেকে ত্রাণবোঝাই কয়েকটি কার্গো উড়োজাহাজ পালু শহরে রওয়ানা হয়েছে বলে জানান দেশটির প্রধান নিরাপত্তামন্ত্রী। রানওয়ে এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পালু শহরের বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ত্রাণবাহী উড়োজাহাজগুলো যেন অবতরণ করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সন্ধ্যায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার আগে ভোরের দিকে একটি অপেক্ষাকৃত কম শক্তির ভূমিকম্পে পালুসহ আশপাশের অঞ্চল কেঁপে উঠেছিল।