আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা আজ

বড় শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

রকীবুল হক
| প্রথম পাতা

অবশেষে আজ দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২২ শর্তে এ জনসভার অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মাত্র একদিন আগে শনিবার এ অনুমতি পেলেও আজকের জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। ঢাকা মহানগর ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেবেন। দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেও আজ বড় একটি জনসভা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে এ জনসভায় ২০দলীয় জোট এবং প্রক্রিয়াধীন জাতীয় ঐক্যের নেতারা  অংশগ্রহণ করবেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্রমতে, চলমান রাজনৈতিক ইস্যুতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি এ জনসভাটি করতে চেয়েছিল বৃহস্পতিবার। কিন্তু পুলিশের অনুমতির জন্য তাদের পরামর্শে দুই দিন পিছিয়ে শনিবার জনসভার তারিখ নির্ধারণ করেছিল দলটি। কিন্তু শনিবার ক্ষমতাসীন ১৪ দলেরও সমাবেশের কর্মসূচি থাকায় দেখা দেয় উত্তেজনা। এদিন পুলিশের অনুমতিও পাচ্ছিল না বিএনপি। উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে রোববার জনসভা করার আগ্রহের কথা জানায় দলটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে ২২ শর্তে আজকের জনসভার অনুমতি পায় বিএনপি। ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বিএনপির প্রতিনিধি দল এ জনসভার অনুমতি পায়। এর পরই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয় জোর গতিতে।
শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আজকের জনসভার অনুমতি পাওয়ার কথা জানিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জনসভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববার বিএনপির সফল জনসভা হবে এবং এতে বিপুল জনসমাগম হবে। 
রিজভী জানান, এ জনসভায় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ ঢাকাবাসীকে যথাসময়ে জনসভায় যোগদানের জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
এদিকে বিএনপি আয়োজিত আজকের জনসভায় ২০ দলীয় জোট এবং প্রক্রিয়াধীন জাতীয় ঐক্যের নেতারা অংশগ্রহণ করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করে কিছুই বলেননি। এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজ সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোট বা অন্য নেতারা অংশগ্রহণ করবেন কি না তা আমার জানা নেই।
জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, আমরা বিএনপির জনসভার কোনো আমন্ত্রণ এখনও পাইনি। জাগপার মহাসচিব লুৎফর রহমানও একই ধরনের কথা বলেন। যুক্তফ্রন্টের শরিক জাসদের (রব) এক নেতা জানান, বিএনপির জনসভায় অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণও আসেনি।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়ার পর শনিবার দুপুর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয় জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ। দুপুর দেরটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাস্থল দেখতে আসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সারোয়ার, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদসহ একটি প্রতিনিধি দল।
জনসভার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা জনসভা করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলের লোকজন এতে অংশগ্রহণ করবেন। সম্প্রতি নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত জনসভার চেয়েও সোহরাওয়ার্দীতে বড় আকারের জনসভা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ গেল বছরের ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করেছিল বিএনপি। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ওই সভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন পর ঢাকায় ১ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়া ছাড়াই জনসভা করে দলটি। এরপর আজ বড় কর্মসূচি হচ্ছে।
ডিএমপির ২২ শর্ত : বিএনপির জনসভা করার অনুমতির ক্ষেত্রে ডিএমপির পক্ষ থেকে বেঁধে দেওয়া ২২ শর্তের মধ্যে রয়েছে স্থান ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি ও জনস্বার্থ, রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তাবিরোধী কার্যকলাপ না করা, উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি না করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার না করা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অভ্যন্তরে জনসভার যাবতীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে পর্যাপ্ত নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) নিয়োগ করা, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলের অভ্যন্তরে ও বাইরে উন্নত রেজুলেশনযুক্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে স্থাপন এবং জনসভায় আগতদের হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে আসা সব যানবাহন তল্লাশির ব্যবস্থা করা, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জনসভাস্থলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা, অনুমোদিত স্থানের বাইরে সাউন্ড বক্স ব্যবহার না করা, অনুমোদিত স্থানের বাইরে বা সড়কের পাশে প্রজেকশন সিস্টেম স্থাপন না করা, জনসভা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে লোকজন সভাস্থলে আসা, বিকাল ৫টার মধ্যে জনসভার যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা ইত্যাদি। এসব শর্ত যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এ অনুমতির আদেশ বাতিল বলে গণ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়।