আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা ১৪ দলের

রাজশাহীতে ৯, নাটোরে ১০ ও খুলনায় ১৩ অক্টোবর সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে শনিবার ১৪ দলের কর্মী সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা - আলোকিত বাংলাদেশ

  • পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির প্রয়োজন নেই
  •  ভাড়াটে নেতা দিয়ে কাজ হবে না
  •   ডাক দিলেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসবেন 
  •  পরাজয় মেনে নিয়েছে তারা
  •  নির্বাচন যথাসময়ে হবে

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে কিছু মানুষ জোট করে আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছেÑ এমন মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা কর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষমতাসীন এ জোটের নেতারা আরও বলেন, এসব জোট করে কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন যথাসময়ে হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অক্টোবরের আন্দোলনের ঘোষণার সমালোচনা করে নেতারা বলেন, ওই অক্টোবর আপনাদের জীবনে কখনও আসবে না। চক্রান্তকারীদের কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে। বিএনপি-জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারা বলেন, ’৭১ ও ’৭৫ এর খুনিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। 
এদিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোর ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১৪ দলের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে একই মাসে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করা হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয় কর্মিসভা থেকে। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দল আয়োজিত কর্মিসভায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। বিএনপির অব্যাহত ‘মিথ্যাচার’ ও ‘চক্রান্তের’ প্রতিবাদে এ সভার ডাক দেয় ১৪ দল।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া প্রমুখ। 
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আমির হোসেন আমু বলেন, তাদের (বিএনপি নেতাদের) মুখে নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা যখন শুনি, তখন মনে হয় ভূতের মুখে রাম নাম। নিরপেক্ষ সরকারের দাবি তাদের একটা ভাওতাবাজি। তিনি ড. কামাল-বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে খড়কুটোর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বিএনপি পরাজয় মেনে নিয়েছে। কারণ মানুষ ডুবে যাওয়ার আগে খড়কুটো ধরে বাঁচার চেষ্টা করে। তেমনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ডুবে যাওয়ার আগে গণফোরাম; এ ফোরাম, ওই ফোরামের সঙ্গে জোট করে খড়কুটোর মতো আকড়ে ধরে বাঁচতে চাচ্ছে। এসব জোট করে কোনো লাভ হবে না। কারণ সবচেয়ে বড় জোট জনগণের জোট। সে জোট শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। তিনি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের আন্দোলন করার ক্ষমতা নেই। তারা আন্দোলনের নামে রেললাইন তুলে ফেলার চেষ্টা করবে, রাস্তাঘাট বন্ধ করার চেষ্টা করবে। তারা যেন সে কাজ করতে না পারে, এজন্য পাহারা দিতে হবে। সন্ত্রাসী কর্মকা- যারা করবে, তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। 
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তারা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে আমাদের কর্মসূচি বন্ধ করতে চেয়েছিল। সেটি তারা পারেনি। আপনারা বাঘের বাচ্চা। তিনি ড. কামাল ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ভাড়াটিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভাড়াটিয়া নেতা দিয়ে কাজ হবে না। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। আপনারা সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। শেখ হাসিনা ডাকা মাত্র ঘর থেকে বের হয়ে আসবেন। শেখ হাসিনা ছাড়া বাংলাদেশে কোনো বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত করলে কালো হাত ভেঙে দেওয়া হবে। ’৭১ ও ’৭৫ এর খুনিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ সময় তিনি কর্মসূচি ঘোষণা করে আরও বলেন, তারা অক্টোবরে আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের জীবনে ওই অক্টোবর কখনও আসবে না। আমরা আগামী ৯ অক্টোবর রাজশাহী, ১০ অক্টোবর নাটোর ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় সমাবেশ করব। আর ১৪ দলের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করে একই মাসে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করা হবে।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, যারা ৯ বছরে ৯ দিনও আন্দোলন করতে পারেনি তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালের নামে যদি আবার আগুনসন্ত্রাস হয়, মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়, স্কুলে আগুন দেওয়া হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে না। 
ড. কামাল ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর অতীত রাজনীতির কথা তুলে ধরে মতিয়া চৌধুরী বলেন, দুই পলায়ন নেতা এবং লন্ডনে পলাতক তারেক রহমান এ তিন পলায়ন নেতা মিলে জোট করেছেন। তারা ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছেন। তারা গণতন্ত্রের নামে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন যথা সময়ে হবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, কয়েক দিন আগে এখানে জাতীয় ঐক্যের নামে একটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। জাতি তাদের সঙ্গে নেই।