আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ৩০-০৯-২০১৮ তারিখে পত্রিকা

কর্মকা- তুলে ধরছে ফেইসবুক, গুগল প্লাস ইউটিউব ও টুইটারে

ডিজিটাল প্রচারণায় সরব দলগুলো

মিজান রহমান
| প্রথম পাতা

ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হাতে সময় কম। তাই বসে নেই রাজনৈতিক দলগুলো। নতুন প্রজন্মের কাছে ভোটের আর্জি পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর দিকেই ঝুঁকেছে তারা। অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় চলছে নির্বাচনি প্রচারণা। অনেক রাজনৈতিক দল এরই মধ্যে ডিজিটাল প্রচার সেলও খুলেছে। পাশাপাশি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজস্ব উদ্যোগে সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইট থেকেও প্রচার চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক কর্মকা-ের তথ্য তুলে ধরছে ফেইসবুক, গুগল প্লাস ও টুইটার অ্যাকাউন্টে। কেউ কেউ যুক্ত হয়েছেন ইউটিউব চ্যানেলেও। সব 

মিলিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যয়ের একটি বড় অংশ রেখেছেন ডিজিটাল প্রচারণায়।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার দিনের অনেকটা সময় সরব থাকেন ফেইসবুকে। তার ফেইজবুক ওয়ালে নৌকা মার্কায় ভোট দিন সেøাগনটি দেখা যায়। সারা দিনের কর্মকা- তিনি নিয়মিত আপলোড করেন তার ওয়ালে। আইডির পাশাপাশি তার রয়েছে লাইক পেইজও। সেখানের সরকারের উন্নয়নের প্রচারসহ নিজের কর্মকা- তুলে ধরেন। একইভাবে ফেইসবুকে সরব থাকতে দেখা যায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনকে। তিনিও ব্যক্তিগত কর্মকা-ের ছবির পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। 
ডিজিটাল প্রচার দৌড়ে অবশ্য আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাই এগিয়ে। তারা নিজেদের অথবা সমর্থকদের নামে বিভিন্ন ফেইসবুক পেজ খুলে নিজ এলাকাবাসীর কাছে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। কারও কারও নামে ফেইজবুকে ফ্যান পেজও রয়েছে। অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী তাদের নির্বাচনি ইশতেহারও প্রকাশ করেছেন নিজস্ব ওয়েবসাইটে। এর বাইরে প্রতিদিন কী কী কর্মকা-ে অংশ নিচ্ছেন, তার সারসংক্ষেপও তুলে ধরছেন। ঝালকাঠি-১ আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভব্য প্রার্থী মনিরুজ্জামন মনির, নাটারের আহমদ আলী মোল্লা, দিনাজপুরের আবু হোসাইন বিপু, জয়পুর হাটের বুলবুল আহমেদসহ অনেকেই নৌকায় ভোট চেয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন ফেইসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া। তারা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ফেইসবুক পেজে।
ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করা আরিফ আহমেদ আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আগামী নির্বাচনে ২৫ ভাগ ভোটারই তরুণ, এছাড়া প্রযুক্তির সার্বজনীন ব্যবহার বৃদ্ধিতে বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের অধিকাংশ মানুষই এখন ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত; ফলে প্রায় ৪ কোটি ভোটারের সঙ্গে আগামীতে জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্ক গড়ে উঠবে ডিজিটাল মাধ্যমে। অনেক ক্ষেত্রেই একটা নির্বাচনি সভার চেয়ে ফেইসবুকের একটি স্ট্যাটাসের বার্তা বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাবে। তাই ডিজিটাল মাধ্যমকে আগামী নির্বাচনি প্রচারে বড় মাধ্যম হিসেবে নিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সক্রিয় করে তোলার জন্য তাদের সব রাজনৈতিক কর্মকা-ের তথ্য তুলে ধরছে ফেইসবুক, গুগল প্লাস ও টুইটার অ্যাকাউন্টে। কেউ কেউ যুক্ত হয়েছেন ইউটিউব চ্যানেলে। এসব চ্যানেলে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের ভিডিও ছাড়াও আপলোড করা হচ্ছে বিশেষ তথ্য বা প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি)। 
ডিজিটাল প্রচারের ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে ফেইসবুক লাইভ বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। বিশেষত, বড় বড় সভা-সমাবেশের প্রচারের ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর কৌশল হতে চলেছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে তাদের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজ থেকে লাইভ কার্যক্রম শুরু করছে। তাদের পেজ থেকে চলতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের লাইভ কার্যক্রম জনসাধারণের নজর কেড়েছে। অপর দিকে বিএনপিও প্রযুক্তি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আগ্রহী হয়ে উঠছে। 
এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও এমপি-মন্ত্রীরা ডকুমেন্টারি তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উন্নত বিশ্বের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণা ক্রমশ দেশীয় সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিচ্ছে। 
মূলত মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতারা ডিজিটাল প্রচারে বেশ এগিয়ে। তারা নিজেদের প্রচারে তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে গ্রহণ করছেন অভিনব সব কৌশল। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার বাড়াতে তাদের নির্বাচনি আসনের প্রতিটি গ্রাম থেকে একজন করে প্রচার কর্মী নিয়োগ করছেন। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজের এবং দলের প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারা ফেইসবুকের পাশাপাশি গুগল প্লাস, টুইটার, লিংকড ইন এবং ইউটিউব চ্যানেলেও প্রচারণা চালাচ্ছেন। নানা তথ্যচিত্র নির্মাণ করে ইউটিউবে আপলোড করা হচ্ছে। প্রচারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে নানা কন্টেন্ট। 
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কাজে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দেবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, পত্রিকা বা টেলিভিশনে কোনো কিছু প্রকাশ করা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এ পরিবর্তনটি ঘটেছে। দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে বিধায় এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। আমরা সেই মাধ্যমকে আগামী নির্বাচনে কাজে লাগাতে চাই। সে লক্ষ্যে আমরা একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছি, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আগামী নির্বাচনের দলীয় প্রচার-প্রচারণার জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, বিভিন্ন সেক্টরে বর্তমান সরকারের সাফল্য এবং আগামী দিনে দেশের জন্য আওয়ামী লীগ গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনাগুলো প্রচার করবে। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিও ডিজিটাল প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারের প্রস্তুতি রয়েছে দলটিতে। এরই মধ্যে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ^ এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটের বিরানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ফয়সল আহমেদ চৌধুরী তার নিজ এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরা এ্যানি বলেন, ইন্টারনেটের যুগে এ ধরনের কার্যক্রম অবশ্যই কাজে লাগানোর দরকার। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে অবশ্যই ডিজিটাল প্রচারণায় নামবে। ডিজিটাল প্রচারণায় প্রস্তুতি আমাদের আছে। 
এদিকে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিরও ডিজিটাল প্রচারণায় সরব। তরুণ ভোটারদের দিকে জাতীয় পার্টি বিশেষ নজর রাখছে জানিয়ে তাদের ভোট পেতে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনি ক্যাম্পেইন’ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এরশাদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রচারের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াই জাতীয় পার্টির ‘মূল লক্ষ্য’। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা শফিউল্লাহ আল মুনীর বলেন, ডিজিটাল কার্যক্রমে সামাজিক মাধ্যমে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাতে বিভিন্ন ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বার্তা দেশব্যাপী প্রচার করবে জাতীয় পার্টি। এছাড়া কোয়েরি ম্যাসেজ, ফেইসবুক মেসেঞ্জারে স্বয়ংক্রিয় বার্তা প্রদান, বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণেও বিজ্ঞাপন প্রচারের পরিকল্পনা তুলে ধরবে দলটি।