আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২২-০২-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

উগ্রবাদ প্রতিরোধে তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে

ঢাবি প্রতিনিধি
| নগর মহানগর

সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মধ্যে সহিংসতার বীজ বপন হয়। সৃষ্টি হয় উগ্রবাদ, সহিংসতামূলক সংগঠন। কিন্তু এ উগ্রবাদ সহিংসতার উৎপত্তি এখন ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। আগে গরিব-মাদ্রাসার ছাত্ররা উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হতো। এখন সম্ভ্রান্ত পরিবার ও ভাবধারায় জীবনযাপনে অভ্যস্ত তরুণরা উগ্রবাদ-সহিংসতায় জড়িত হচ্ছে। বর্তমান সময়ের অন্যতম এ সমস্যা প্রতিরোধে তরুণ সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এক গোলটেবিল আলোচনার মূল প্রবন্ধে এসব কথা উঠে আসে।  

‘সহিংসতা প্রতিরোধের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্যে তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ। ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিপিডিএমের কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ ফেরদৌসের লেখা এ প্রবন্ধ পড়ে শোনান ইয়ুথ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সানজিদা জামান। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মো. হায়দার আলি খান। এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অ্যাডিশনাল ডিপুটি কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকি, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক কাজী আলী রেজা, বাংলাদেশ ইন্টিমেট গভর্ন্যান্সের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল হক অনু, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিবলী নোমান প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি আরেফিন রহমান হিমেল। 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হতাশা, শিথিল পারিবারিক বন্ধন এবং একাকীত্ব জীবনযাপন। রয়েছে পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক শিক্ষা-বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সুশিক্ষার অভাব। এছাড়া বেকারত্ব, নিজেকে ভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠা করার মনবৃত্তি, একাকীত্ব থাকার কারণে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার, সোশ্যাল মিডিয়ার কুপ্রভাব, মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় ইত্যাদির কারণে যুবকদের মধ্যে এ সমস্যার প্রবণতা বেশি লক্ষণীয়। 
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মো. হায়দার আলি খান বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা ভবিষ্যতের কর্ণধার। দেশের আশা-ভরসার স্থল তারাই। বাঙালি জাতির গৌরবময় ইতিহাস ও সোনালি অর্জনে তাদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এ তরুণ সমাজ উগ্রবাদ-সহিংসতার দিকে ঝুঁকছে। এ ক্ষেত্রে তরুণদেরই এ সমস্যা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে নিজ নিজ এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসনকে সহিংসতা নির্মূলে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি। 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের যুগ্ম সম্পাদক কাজী আলী রেজা বলেন, যার কথা বলার কোনো জায়গা নেই, তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া একমাত্র অবলম্বন। কেননা গণমাধ্যমের চেয়েও এ জায়গায় নিজের মতামত প্রকাশে কোনো বাধা থাকে না। তাই এটা এত জনপ্রিয়। কিন্তু এ জায়গাটার ইতিবাচক দিকগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। তিনি সন্তানদের বেড়ে ওঠায় পরিবারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা যে অনৈতিক কাজে ছেলেমেয়েদের প্রমোট করছি, তার জন্য পরিবার দায়ী। কেননা আমরা সন্তানদের বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধ করে থাকি। কিন্তু কেন করি তার ব্যাখ্যা দিই না।’ এ সময় ছেলেমেয়েদের প্রতি পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিও জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে উগ্রবাদ-সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে ধৈর্য ধারণের চর্চা করার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।