আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৪-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পায়রা বন্দরের কাজে পরামর্শক নিয়োগে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| নগর মহানগর

পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল, সংযোগ সড়ক, আন্দার মানিক নদীর ওপর সেতু এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে কোরিয়ার তিন কোম্পানির (জয়েন্ট ভেঞ্চার) সঙ্গে পায়রা বন্দরের একটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এম জাহাঙ্গীর আলম এবং কুনওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনসাল্টিং কোম্পানির প্রেসিডেন্ট জিয়ং লানোহ, দায়েং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির পরিচালক দায়ে জিনকিম ও হেরিম আর্কিটেক্টস অ্যান্ড প্ল্যানার্স কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার ইউন স্যাংজু। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরামর্শক কাজের চুক্তিমূল্য ৭৯ কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ টাকা। চুক্তি স্বাক্ষরের পর কাজ সম্পন্ন করার সময় ৩৬ মাস। ডিজাইন ফেইজের জন্য ৬ মাস এবং সুপারভিশন ফেইজের জন্য সময় ৩০ মাস। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজকে দুইটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে যথা ডিজাইন এবং সুপারভিশন। ডিজাইন ফেইজ অনুযায়ী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের প্রতিটি অঙ্গের পরিকল্পনা প্রণয়ন, ডিজাইন, ড্রইং, প্রাক্কলন, টেন্ডার ডকুমেন্ট এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন ইত্যাদি প্রস্তুত করবে। সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যাল ও আনুষঙ্গিক কাজ সুপারভিশন করবে সুপারভিশন ফেইজ। নৌপরিবহন সচিব বলেন, পায়রা বন্দর প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্প এবং ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প। আশা করি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজটি ঠিকভাবে করবে, যাতে পায়রা বন্দর দ্রুত অপারেশনে যেতে পারে।
আরও জানানো হয়, সরকার পায়রা বন্দরের মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে বন্দরের জন্য দুইটি টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে ছয়টি বার্থসহ কমপক্ষে দুইটি টার্মিনাল নির্মাণ এবং ১০ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতার চ্যানেল সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনার আওতায় পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে তিনটি বার্থসহ একটি টার্মিনাল এবং অন্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মিত হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একনেক সভায় ৩ হাজার ৯৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একটি ভোরের পাখি (আরলি বার্ড) প্রকল্প। 
প্রকল্পের আওতায় স্পোপ প্রোটেকশনসহ জেটি, ইউটিলিটি সার্ভিস এবং ইয়ার্ড সুবিধাসহ টার্মিনাল, অস্থায়ী জেটি এবং বিদ্যমান পানি উন্নয়ন বোর্ড রোড পুনর্নির্মাণ, মেরিন ক্রাফট এবং ইয়ার্ড ইক্যুইপমেন্ট ক্রয়, ছয় লেনবিশিষ্ট সাড়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পোর্ট এক্সেস রোড এবং ছয় লেনবিশিষ্ট মিডিয়াম সেতু ও নদীর ওপর প্রায় ১ হাজার ৫০ মিটার দীর্ঘ ছয় লেনবিশিষ্ট সেতু নির্মাণ করা হবে।
সরকার পায়রা বন্দরের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্বল্প পরিসরে বন্দরের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করে বিভিন্ন নৌরুটের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন করা হচ্ছে। দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে বন্দরের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় পায়রা সমুদ্র বন্দরের উদ্বোধন করেন।