আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৪-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

গবেষণা প্রতিবেদন

৯০ শতাংশ স্কুলের পাশে সিগারেট বিক্রি হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
| নগর মহানগর

জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে ‘বিগ টোব্যাকো টাইনি টার্গেট বাংলাদেশ প্রতিবেদন উপস্থাপন ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুর হাসান চৌধুরী ষ পিআইডি

দেশের ৯০ দশমিক ৫ শতাংশ স্কুল ও খেলার মাঠের বাইরে বিক্রি হয় সিগারেট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাইরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনেই বিক্রি হচ্ছে সিগারেট। ‘বিগ টোব্যাকো টাইনি টার্গেট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য ওঠে এসেছে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে ‘বিগ টোব্যাকো টাইনি টার্গেট বাংলাদেশ প্রতিবেদন উপস্থাপন ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯০ দশমিক ৫ শতাংশ স্কুল ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বা সিগারেট বিক্রির দোকান পাওয়া গেছে। ৮১ দশমিক ৮৭ শতাংশ দোকানে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন শিশুদের দৃষ্টির ১ মিটারের মধ্যে দেখা যায়। চকোলেট এবং খেলনার পাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে দেখা যায় ৬৪ দশমিক ১৯ শতাংশ দোকানে। স্কুল ও খেলার মাঠের পাশে বিভিন্ন দ্রব্য বিক্রির দোকানগুলোতে ৮২ দশমিক ১৭ শতাংশ তামাকের বিজ্ঞাপন দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের বিগত পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি পর্যালচনা করা হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী মো. খলিলুর রহমান (যুগ্মসচিব), ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. বেনজীর আহম্মদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আবদুল কাইয়ুম তালুকদার এবং ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্সের গ্রান্ডস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক ড. এম এহ্ছানুর রহমান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. মোখলেছুর রহমান।
অনুষ্ঠানে শিশু, কিশোর ও যুবসমাজকে তামাক ও ধূমপানে আসক্ত করা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে তামাক কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন কূট কৌশল বন্ধে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন সরকারের প্রতি কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরেন। এসবের মধ্যে রয়েছে, সরকারের উচিত বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন সংশোধন করা; তামাকজাত দ্রব্যের খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং আইনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা দরকার; স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের উচিত তামাক বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলা’ এবং ‘খুচরা বিক্রি নিষিদ্ধ’ এমন শর্ত লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত করা; তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগকে আরও উন্নত করা, বিশেষ করে বিক্রয় কেন্দ্রে বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রচারণার ক্ষেত্রে ইত্যাদি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে ৮১ দশমিক ৮৭ বিক্রয় কেন্দ্রে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন হচ্ছে শিশুদের দৃষ্টি সীমানার মধ্যে (১ মিটারের মধ্যে) বাংলাদেশ সরকার ২০০৩ সালে ঋৎধসবড়িৎশ পড়হাবহঃরড়হ ড়হ ঞড়নধপপড় পড়হঃৎড়ষ (ঋঈঞঈ) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে এবং ২০০৪ সালে অনুস্বাক্ষর করে।