আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৪-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

আক্রান্ত হলো মানবতা

শ্রীলঙ্কায় সন্ত্রাসী হামলা

| সম্পাদকীয়

রোববার সকালে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলাকালে প্রায় একই সময়ে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোসহ তিনটি শহরের তিনটি চার্চে এবং তিনটি পাঁচতারা হোটেলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন দুপুরে সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান চলাকালে আরও দুটি বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। জানা যায়, সব হামলাই ছিল আত্মঘাতী। এ আট হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন শতাধিক। আহত হয়েছেন ৫৫০ জনের বেশি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ তালিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছে। আমরা নিহত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনা করছি, আহতদের সুচিকিৎসা ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং হতাহত ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা, সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করছি। পাশাপাশি এমন অমানবিক ও বীভৎস ঘটনার প্রতি জানাই তীব্র নিন্দা।
শ্রীলঙ্কার তিন দশকের জাতিগত সহিংসতার অবসান ঘটেছে প্রায় এক দশক আগে। দেশটির জনসাধারণ স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আশাবাদী হলেও সেখানে কিছু রাজনৈতিক টানাপড়েন এখনও বিদ্যমান। কিন্তু এত বড় সন্ত্রাসী হামলা, যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার আশাবাদের ওপর এক প্রচ- আঘাত, তা এসেছে ভীষণ অপ্রত্যাশিতভাবে। উল্লেখ্য, মার্চের নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ক্ষত এখনও শুকায়নি। এরই মধ্যে সন্ত্রাসীদের বোমায় আবারও আক্রান্ত হলো বিশ্বমানবতা। শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি পৃথিবীজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। হামলার ভয়াবহতায় শ্রীলঙ্কার মানুষ হতবিহ্বল হয়ে গেছেন। সোমবার সকালে দেশটির রাজধানী কলম্বোর রাস্তাঘাট ছিল প্রায় জনশূন্য। অধিকাংশ দোকানপাটই ছিল বন্ধ। গুরুত্বপূর্ণ হোটেল ও স্থাপনার বাইরে সশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করেছেন সেনারা। এছাড়া রাজধানীতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সেনা ও পুলিশি টহল দেখা গেছে। হামলার জেরে দেশটিতে নতুন করে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি হোকÑ এটা আমরা চাই না। কেননা একটি দেশের সাম্প্রদায়িক সংঘাত অনেক সময়ই অপর দেশকেও প্রভাবিত করে, যা বিশ্বব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানবতা।
ভিন্ন ধর্ম বা জাতির প্রতি কিছু মানুষের ঘৃণা-বিদ্বেষের কারণে অনেক দেশেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এ দেশের মানুষ ভ্রাতৃপ্রতিম, এ দেশে কোনো মসজিদ, মন্দির, পেগোডায় এ ধরনের ঘটনা হোকÑ এমনটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শ্রীলঙ্কায় এমন সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের উচিত সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা, দেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। সন্ত্রাসবাদীদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারেÑ এমন সব বিষয়ে নতুন করে দৃষ্টি দেওয়া। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় ও সন্ত্রাসী কর্মকা- প্রতিরোধে বাংলাদেশ অতীতের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখবেÑ এমনটাই প্রত্যাশা। হ