আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৪-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

‘আমরা স্বার্থপর ফুটবল খেলিনি’

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারিয়ে বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। জিতলেও নিজেদের ভুলে মেলেনি প্রত্যাশিত গোল। নিজেদের ভুলে বেশি গোল না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে কিরগিজস্তানের বিপক্ষে ভুলের পুনরাবৃত্তি চান না মিশরাত জাহান মৌসুমী ও সিরাত জাহান স্বপ্না। জানান, গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া দল। অনূর্ধ্ব-১৩ বয়স পর্যায়ে আমিরাতকে ৩ ম্যাচে ১৭ গোল দিয়েছিলেন বাংলাদেশের মেয়েরা; সোমবার প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ বয়স পর্যায়ে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল; লাল-সবুজ মেয়েরা পেয়েছেন ২ গোলের জয়।

৩ পয়েন্ট পেয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও জয় ছাপিয়ে কথা হচ্ছে সুযোগ নষ্ট নিয়ে। ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষ পোস্টে স্বাগতিক কিশোরীরা শট নিয়েছেন ৩৩টি, গোলমুখীই ২২, ২০টি কর্নারে গোল মাত্র ১টা! ব্যর্থতা খুঁজতে গিয়ে বলা হচ্ছে ‘স্বার্থপরতা’ নিয়ে। যে কারণে অন্তত ৫টা গোল কম হয়েছে! ২০ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় আমিরাতের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলমুখে দাঁড়িয়ে নিরীহ শটে গোলরক্ষকের হাতে বল তুলে দেন শামসুন্নাহার। অথচ পাশে ফাঁকায় ছিলেন স্বপ্না, মৌসুমী ও কৃষ্ণা। পুরো ম্যাচে এটাই ছিল আবহ চিত্র; গোলমুখে বল পেলে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা সতীর্থকে পাস দেননি কেউই!
ব্যবধান ১০-০ হলে স্বাভাবিক ফল মনে হতো, না হওয়াতেই প্র্রশ্ন। স্বার্থপর ফুটবল খেলায় এমন হয়েছে বলেই ধারণা করছেন অনেকে। তবে অধিনায়ক মৌসুমী গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন, ‘দলের কেউ স্বার্থপর ফুটবল খেলেনি। ফিনিশিংয়ে দুর্বলতার কারণে ব্যবধান বড় হয়নি।’ স্বার্থপর ফুটবল না খেলার জন্য নিজেরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে মাঠে নামি’, বলেন মৌসুমী। তিনি জানান, ‘আমরা সবাই মাঠের নামার আগে বলি, স্বার্থপর খেলা খেলব নাÑ এটা আমরা ওয়াদা করে নামি। হয়তো নিজেদের সুযোগ ছিল বলেই তারা নিজেরা চেষ্টা করেছে। এমনটা যে তারা স্বার্থপরের মতো খেলেছে। এটা কখনোই বলব না। সবসময়ই বলি, আগে আমরা দলের জন্য গোল দেব। স্কোরলাইন বেশি থাকলে তুমি সুযোগ নিতে পার।’
ম্যাচে ৭২ শতাংশ বল ছিল বাংলাদেশের পায়ে। এরপরও স্কোরলাইন বড় না হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি, ‘সুযোগ তৈরি করেছি অনেক, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। পারলে ব্যবধান আরও বড় হতো; ৭টার মতো মিস করেছি, এটা আমাদের ভুল। এজন্য আমরা দুঃখিত। তবে চেষ্টা করেছি গতবারের চেয়ে আরও বেশি গোল দিতে, হয়নি। ফিনিশিংয়ে আমাদের মধ্যে ভুল-ত্রুটি ছিল, যার জন্য পারিনি।’ ভুল স্বীকার করে ফরোয়ার্ড স্বপ্নাও দিলেন কিরগিজ ম্যাচে সুযোগ কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি, ‘গত ম্যাচে অনেক গোল মিস করেছি আমরা, গোলের সুযোগ নষ্ট করে অবশ্যই খারাপ লাগছে। যে ম্যাচ চলে গেছে, সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আমাদের দৃষ্টি এখন সামনের ম্যাচে। কিরগিজস্তান ম্যাচে চেষ্টা করব যেন এভাবে গোল মিস না হয়।’ ২০১৬ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইয়ে কিরগিজদের ১০-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশের। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে দলটিকে সমীহ করছেন অধিনায়ক মৌসুমী, ‘১৬ আর ১৯ এক রকম নয়; কিরগিজস্তান শক্তিশালী। ওদের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
গতকাল দুপুরে বাফুফের টার্ফে ১ ঘণ্টা অনুশীলন করিয়েছেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তবে ছিলেন না প্রথম ম্যাচ খেলা ১৪ খেলোয়াড়ের কেউই। অনুশীলনের শিডিউল দিয়ে কেন আবার বাতিল করলেন? ‘মেয়েরা তো আগের দিনই ৯০ মিনিট অনুশীলন করল’, ছোটন হেসে বলেন, তাদের রিকোভারির প্রয়োজন ছিল সেটা করেছে। যারা ম্যাচ খেলেছিল তারা আইসবাথ, সাইক্লিংসহ ফিজিক্যাল এক্সরসাইজগুলো করেছে।’ খেলার বাইরে থাকা খেলোয়াড়দের অনুশীলন সেরে কোচ ছোটন লক্ষ্য জানান, ‘প্রথম ম্যাচে হওয়া ভুল-ত্রুটিগুলো দূর করে পরের ম্যাচে আরও ভালো খেলা উপহার দেওয়া। তিনি মূলত সামনের দুই দিন আক্রমণ ভাগ নিয়েই বেশি কাজ করবেন। ‘ফিনিশিং দুর্বলতার জন্য আমরা বেশি গোল দিতে পারিনি। এ জায়গাটা নিয়েই আমি বেশি কাজ করব, যাতে সামনের ম্যাচে ভুল কম হয়’, বলেন ছোটন। তার সন্তুষ্টি, ‘সবকিছুই ছিল ম্যাচে। শুধু ফিনিশিংটাই ভালো হয়নি। আমাদের মেয়েরা ৯০ মিনিট ডমিনেট করেছে। নির্দেশনা ছিল প্রথম মিনিট থেকে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার। কারণ দর্শক মাঠে আসবে, তাদের উপভোগ্য খেলা উপহার দেওয়ার জন্য।’