আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৪-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সরকারের ১০০ দিন

বড় ধরনের উত্থানের প্রতিফলন দেখা যায়নি : সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

বর্তমান সরকারের ক্ষমতার ১০০ দিন দেখেছি উৎসাহহীন, উদ্যোগহীন, উচ্ছ্বাসহীন ও উদ্যমহীন। আশা করেছিলাম, ১০০ দিনে বড় ধরনের উত্থানের প্রতিফলন দেখতে পাব। কিন্তু তা না হয়ে শুধু ধারাবাহিক উদ্যোগ ছিল। আবার সরকার যে ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে, তা মিশ্র ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেমন কর ছাড়, সুদের হারে সুবিধা। মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকারের ১০০ দিন নিয়ে ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা : বর্তমান সরকারের প্রথম একশো দিন’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিপিডি।
সরকারের কিছু ভালো উদ্যোগের জানিয়ে এ সময় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এ ভালো উদ্যোগগুলোর মধ্যে আছেÑ বিদেশি কর্মজীবীদের বিষয়ে জরিপ চালিয়ে করের আওতায় আনার উদ্যোগ, মানি লন্ডারিং বিধিমালা জারি করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপনকে করের আওতায় আনা।
তিনি বলেন, নুন সরকার যখন নুুনভাবে আসে, তখন সে বিগত সময়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে নুুন ধরনের উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগটা তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি। আমি মনে করি, সাম্প্রতিক সময়ে যত নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে, আওয়ামী লীগের এ নির্বাচনি (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে) ইশতেহার সব থেকে সুচিন্তিত, সুলিখিত এবং সুগঠিত।
দেবপ্রিয় বলেন, শাসক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছেÑ কোনো রকম দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না। কিন্তু আমরা দেখছি, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে, অন্যান্য সামাজিক সেবার ক্ষেত্রে সেই দুর্নীতি প্রকটভাবে রয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পরিবর্তনের, দিন বদলের। আর ওই বদলকে আটকে রাখছে এমন একটি গোষ্ঠী, যারা এ দুর্নীতি থেকে সুবিধা ভোগ করছে। সুবিধাভোগী সম্প্রদায় যেটা রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে আছে, সেটা রাজনৈতিক পরিবর্তনের শক্তিকে সামনে আসতে দিচ্ছে না। এটাকে যদি সমাধান করা না যায়, তাহলে আওয়ামী লীগের সুচিন্তিত, সুলিখিত ও সুগঠিত ইশতেহার কাল্পনিক দলিল হিসেবেই ইতিহাসে স্থান পাবে।
তিনি বলেন, উন্নয়নের যে ধারণা তার সঙ্গে নীতি প্রণয়নের ধারণার অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের যে ধরনের ভূমিকা সেটা আমরা দেখতে পারছি না। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য যে ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের দরকার ছিল, সেগুলোর কিছু হয়নি। এ ১০০ দিনে আমরা আশা করেছিলাম অসঙ্গতিগুলো দূর করা যাবে। আমরা সে ধরনের সচেতনুাও দেখিনি, সে ধরনের পদক্ষেপও দেখিনি।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি গণনার পদ্ধতির সমালোচনা করে দেবপ্রিয় বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে দেখছি প্রবৃদ্ধিনির্ভর অর্থনৈতিক আলোচনা। কেমন একটি প্রবৃদ্ধি আচ্ছন্নতা বা আকৃষ্টতা আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি। অথচ অর্থনৈতিক তত্ত্বের সাম্প্রতিক সময়ের চিন্তা দেখলে দেখা যাবে, সবাই বলবে প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যথেষ্ট নয়। এটা অর্থনীতি শাস্ত্রের দ্বৈতজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এজন্য মানোন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিককালে জনগণের জীবনমানের বিভিন্ন সূচকের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ যে বৈশিক ঐকমত্য হয়েছে, সেটিও প্রবৃদ্ধির বাইরে গিয়ে অনেক ধরনের পূর্ণাজ্ঞ উন্নয়নের ধারণা সামনে নিয়ে এসেছে। আমরা প্রবৃদ্ধিনির্ভর আলোচনা করি যেন, ওই পূর্ণাজ্ঞা উন্নয়নের আলোচনা আমাদের মনোযোগের বাইরে চলে না যায়। সাম্প্রতিককালে আমরা দেশের ভেতর অর্থনৈতিক আলোচনায় এটার (পূর্ণাজ্ঞা উন্নয়নের বিষয়) গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ দেখিনি।
তিনি বলেন, আমরা সাম্প্রতিককালে অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি দেখি, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত উঁচু, প্রশংসনীয় এবং অনেকের কাছে ঈর্ষণীয়। তবে যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে, তাতে ব্যক্তি খাতের বাড়তি কোনো ভূমিকা আমরা দেখিনি। এ উন্নয়নের জন্য যে ধরনের কর আহরণ দরকার, তা আমরা দেখলাম না। ব্যক্তি খাতে যে ধরনের ঋণপ্রবাহ বাড়ার কথা, তা আমরা দেখলাম না। পুঁজিপণ্যের আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। সেই সঙ্গে ব্যাংক খাতে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে যে ধরনের চাঞ্চল্য থাকে, তা-ও দেখলাম না। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে ধরনের চলক থাকে, সে চলকগুলোর প্রতিফল কিন্তু আমাদের কাছে ধরা পড়ছে না।