আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ২৪-০৪-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ফেইসবুক-ইউটিউবে বিজ্ঞাপন আসছে করের আওতায় : তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক সুরক্ষায় দুই আইন যাচ্ছে সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

দেশে গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদানে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দুটি আইন উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ বুধবার (আজ) একটি অধিবেশন শুরু হবে। কিন্তু এ অধিবেশনে আমরা আইন দুটি উপস্থাপন করতে পারব না। তবে আশা করছি, এর পরের অধিবেশনে আইন দুটি উপস্থাপন করতে পারব।’ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক, সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ, সারাবাংলা ডটনেট, দৈনিক সারাবাংলা ও জিটিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের সুরক্ষায় গণমাধ্যম কর্মী আইন ও সম্প্রচার আইনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেটিং দিয়ে দেবে। এরপরই আমরা আইন দুটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। তবে বুধবার (আজ) শুরু হওয়া অধিবেশনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না। আশা করছি, এর পরের অধিবেশনে উপস্থাপন করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘এ আইন দুটি পাস হলে যখন তখন চাকরি চলে যাওয়াসহ সাংবাদিকদের যেসব সমস্যা দেখা দেয় সেগুলোর আইনি প্রটেকশন দেওয়া সম্ভব হবে। 
সাংবাদিকদের জন্য আলাদা তহবিল গঠনের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জন্য ট্রাস্ট গঠন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে আর্থিক সহায়তা করা যায়। অন্য কোনো কারণে সাহায্য করা যায় না। এরই মধ্যে আমরা আলোচনা করেছি, চাকরি চলে যাওয়াসহ অন্যান্য অসুবিধায় সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হওয়ার কারণে সাংবাদিকদের নানা সমস্যা, প্রতিকূলতা এবং বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সমস্যার সঙ্গে আমি আগে থেকেই পরিচিত। এ কারণে আমি এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজে উদ্যোগী হয়ে এবং গণমাধ্যমের সহায়তায় এসব সমস্যা সমাধানে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ 
ইউটিউব-ফেইসবুকের বিজ্ঞাপন করের আওতায় : তথ্যমন্ত্রী জানান, ইউটিউব, ফেইসবুক ও গুগলে দেশের অনেক বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে। এগুলো থেকে কোনো রাজস্ব পাওয়া যায় না। তাই এগুলোর বিজ্ঞাপনকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইউটিউব, ফেইসবুক ও গুগলকে শৃঙ্খলায় আনতে যেসব জায়গায় আলোচনা করা প্রয়োজন সেসব জায়গায় করেছি। এছাড়া শৃঙ্খলায় আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য আইসিটি মন্ত্রী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেন, ‘ভারতে এ রকম বিশৃঙ্খল অবস্থা নেই। সেখানে ইউটিউব, ফেইসবুককে নিবন্ধন করতে হয়। তাই আমরাও যেন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত না হই এবং সব বিজ্ঞাপন যেন ওই সব মাধ্যমে না চলে যায়, সে জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ 
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিদেশি টিভি চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে সম্প্রচারের জন্য যে ডাউনলিংক ফি রয়েছে, এটা খুবই কম। বাংলাদেশি চ্যানেল অন্যান্য দেশে সম্প্রচারের জন্য ডাউনলিংক ফি দেওয়া লাগে ৫ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের ডাউনলিংক ফি মাত্র ৫ লাখ টাকা। তাই দেশে ডাউনলিংক ফি বাড়িয়ে সমতা আনাটা অত্যন্ত যৌক্তিক। এ নিয়ে আলোচনা করে পরে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের পক্ষ থেকে ঢাকায় এশিয়া মিডিয়া সামিটের আয়োজনের প্রস্তাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা আয়োজন করেন, তথ্য মন্ত্রণালয় এতে সহযোগিতা করবে।’ এশিয়া মিডিয়া সামিটের বিষয়ে শাকিল আহমেদ বলেন, সামিটে এশিয়া মহাদেশের অন্যান্য দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের কর্তৃপক্ষকে আনা হবে। একই সঙ্গে তারা কীভাবে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করেছে সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হবে, যা আমাদের দেশের টিভি শিল্পের জন্য অত্যন্ত কাজে আসবে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আইন ভঙ্গ করে বাংলাদেশে ডাউনলিংকপূর্বক সম্প্রচারিত সব বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করা। পৃথিবীর কোনো দেশেই বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার হয় না। এটি আমরাও বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি বলেন তিনি।