আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়েছে

সচেতন থাকতে হবে
| সম্পাদকীয়

রাজধানীসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়েছে সম্প্রতি। যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরি, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন কোথাও নিরাপদ নয় লোকজন। উল্লেখ্য, বছরজুড়ে অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা থাকলেও তারা অনেক বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠে ঈদের আগে আগে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি অভিযান চালিয়ে তারা অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের গ্রেপ্তারও করছে। আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশ, শনিবার র‌্যাব-২ এর একটি দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অজ্ঞান পার্টির ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চেতনানাশক ওষুধ, মলম, মরিচের গুঁড়া, দৃষ্টিভ্রম করার টাইগার বাম ও আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা জানায়, বাসের যাত্রী সেজে অথবা বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে তারা মানুষকে আকৃষ্ট করে অজ্ঞান করার ওষুধ মিশ্রিত খাবার খাওয়ায় এবং রাস্তায় খাবারের পসরা বসিয়ে বিশেষ করে আখের রস, ডাব, হালুয়া ইত্যাদি ও সিএনজিতে যাত্রী বেশে অন্য যাত্রীদের ওঠানো কিংবা পান ও জুস খাইয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়।
সহজ-সরল মানুষ শুধু নয়, বুদ্ধিবৃত্তি কাজের সঙ্গে জড়িত মেধাবীরাও অজ্ঞান পার্টির শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর পাশাপাশি নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেয় নিজের অজান্তেই। অভিযোগ রয়েছে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে ফাঁকফোকর থাকায় আদালত থেকে অতি সহজে ছাড়া পায়। অভিজ্ঞ মহলের মতে, এ ধরনের অপরাধী যাতে সহজে ছাড়া না পায়, তা নিশ্চিত করতে আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করা দরকার। এছাড়া অজ্ঞান পার্টির কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে অবহিত করতে হবে, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ বিষয়ে অজ্ঞান পার্টির কৌশল প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টির কার্যকলাপ সম্পর্কে জনগণকেও সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। অপরিচিত কোনো ব্যক্তির দেওয়া খাদ্যদ্রব্য খাওয়া যাবে না, যাত্রাপথে পানীয় জাতীয় খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, খাওয়ার আগে খাদ্যদ্রব্যের গুণগত মান যাচাই করতে হবে, কোনো খাবারের প্যাকেট বা পানীয়ের বোতল আগেই খোলা হয়েছে কি না, তা খাওয়ার আগে লক্ষ করতে হবে।
যে কোনো স্থানে মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়া ব্যক্তিদের অবস্থা এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে এমন অপতৎপরতা নির্মূলে সরকারকে কঠোর হতে হবে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জনজীবন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল থাকবেÑ এমনটাই প্রত্যাশা।