আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

আবাহনী ৩ - ২ চেন্নাইন

মাসি-মামুনুলে দুরন্ত জয় আবাহনীর

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

সপ্তম মিনিটে গোল হজম করলেও চেন্নাইন রক্ষণকে গতকাল ত্রস্তব্যস্ত রেখেছিল আবাহনীর ফরোয়ার্ডরা; এটি তার প্রতিচ্ছবি ষ বাফুফে

শেষ বাঁশির পর চেন্নাইন এফসির ব্রিটিশ কোচ জন গ্রেগরির সঙ্গে হ্যান্ডশেক শেষ করে গ্যালারির দিকে ছুটে যান আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস; হাত-পা ছুড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন, চুমু ছুড়ে দিলেন দর্শকদের দিকে, জবাবও পেলেন। মাসি, সানডে, বেলফোর্টরা আরও একধাপ এগিয়ে, দর্শকদের সঙ্গে ইউরোপিয়ান ফুটবলের ছন্দ আনলেন, ফেন্সিং ঘেষে দাঁড়ানো দর্শকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উৎসবে মাত্রা যোগ করেন।

উৎসব করতেই পারেন আকাশি-হলুদ দর্শকরা; পিছিয়ে পড়েও ৩-২ গোলের দুর্দান্ত এক জয় নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছে তারা, বাঁচিয়ে রেখেছে এএফসি কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন। ১৯ জুন এই ঢাকায় আরেক ফিরতি ম্যাচে নেপালের মানাং মারসিয়াংদি ক্লাবকে হারাতে পারলে অন্তত গ্রুপ সেরা রানার্সআপ হয়ে পরের ধাপে খেলার সম্ভাবনা জোরাল হবে। তবে আপাতত মানাং মারসিয়াংন্দি ম্যাচ না, এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে ১৯ মে বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের।

আহমেদাবাদে একচেটিয়া খেললেও শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী গোলে হেরে চেন্নাই থেকে ঢাকা ফিরেছিল আবাহনী; গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে যখন প্রতিপক্ষের প্লেসিং ফুটবলে সপ্তম মিনিটেই যখন গোল হজম করে; তখন কাঁপন ধরেছিল স্বাগতিক সমর্থকদের মনে। কিন্তু গোলটা ছাড়া আহমেদাবাদের মতোই ঢাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল আবাহনীর। ফলে বিরতির পর পর্তুগিজ কোচের নতুন নির্দেশনা পেয়ে পাল্টে যায় ছন্দ, ৬৪ ও ৬৯ মিনিটে বেলফোর্ট ও মাসির দুই গোলে এগিয়েও যায় আবাহনী। আফগান ডিফেন্ডার মাসির গোলটা তো অসাধারণ, বক্সের বাইরে থেকে মানব দেয়ালের উপর দিয়ে জালে জড়ায়। তারচেয়েও চোখ ধাঁধানো গোল মামুনুলের। ৮৩ মিনিটে সোহেল রানার কর্নারের বল ডিফেন্ডার মেইলসন হেড করে ফেরালেও যায় মামুনুলের পায়ে। থামিয়ে ঠান্ডা মাথায় নিজের ট্রেডমার্ক শটে জালে জড়িয়ে দেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, তবে বাম পা নয়, ডান পায়ের শট। তবে এর আগে রক্ষণের ভুলে আইসাক যখন ২-২ করেছিল ফের আতঙ্ক ভর করলেও শেষ পর্যন্ত মামুনুলে রক্ষা।