আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

কেরানীগঞ্জ কারাগারে খালেদা জিয়া

বিএনপির খুশি হওয়ার কথা : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
| নগর মহানগর

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে তার অফিস কক্ষে বুধবার সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী ষ পিআইডি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরে দলের নেতাদের খুশি হওয়ার কথা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দ-প্রাপ্ত হওয়ায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়। বর্তমানে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে রাখা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে তো বারবার বলা হচ্ছিল যে, খালেদা জিয়াকে পুরোনো একটি বিল্ডিংয়ে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা হয়েছিল। যদিও তাকে সেখানে রাখার জন্য ভবনকে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছিল। সেটিকে মর্ডানাইজ করা হয়েছিল। সব সুযোগ-সুবিধা সেখানে দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল একটি পুরোনো ভবনে নির্জন কারাগারে তাকে রাখা হচ্ছে, যেখানে অন্য কোনো বন্দি নেই। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ কারাগারে তো অন্য সব বন্দিকে অনেক আগেই স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে নতুন ভবন, সেটি একেবারে আধুনিক ভবন। সেখানে সব সুযোগ-সুবিধা আছে। এতে তো বিএনপির খুশি হওয়ার কথা। 
এখন (খালেদা জিয়াকে) কোথায় রাখলে যে তারা খুশি হবেন বুঝতে পারছি না। সেখানে যেহেতু পুরোনো কারাগারকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে। সেজন্য এখান থেকে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখন এটি আর রেগুলার কারাগার নয়। কেরানীগঞ্জেরটি হলো একটি রেগুলার কারাগার।  ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত-বাংলাদশের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি ছবি নির্মিত হতে যাচ্ছে। সে ছবির পরিচালক হচ্ছেন বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। সেটি নিয়ে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর নেতৃত্বে তথ্য সচিবসহ সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু চলচ্চিত্রের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্ক্রিপ্ট রাইটার আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবেন। তিনি দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন। ছবিটি যৌথ মালিকানায় হবে। ছবির ৬০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বাংলাদেশের, আর ৪০ শতাংশ মালিক ভারত সরকার। সেভাবেই বিনিয়োগটা হবে। এরই মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে সেখানে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে বলে জানান আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে ভারতে দেখানো সম্ভব হয় সে বিষয়টি আলোচনা করেছি। বিটিভি ভারতে দেখানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আমি এখনই এ ব্যাপারে বলতে চাই না, যেহেতু ভারতে নির্বাচন চলছে। খুব সহসা সুসংবাদ আমরা আপনাদের দিতে পারব। সুসংবাদ তৈরি হয়ে আছে ঘোষণা করতে চাই না। শুধু বলতে চাই এ বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে।