আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সড়ক ও রেলপথ অবরোধ

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন

খুলনা ব্যুরো
| নগর মহানগর

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিয়মিত মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ দুর্বিষহ অবস্থার হাত থেকে রক্ষা পেতে অবিলম্বে শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

শ্রমিকদের ১০ থেকে ১৩ সপ্তাহের মজুরি, কর্মচারী-কর্মকর্তাদের ৪ মাসের বেতন, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দফায় ৫ মে থেকে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের ৩৩ হাজারের অধিক শ্রমিক উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। দ্বিতীয় দফা আন্দোলনের ১০ দিনে বুধবার মিলের উৎপাদন বন্ধ রেখে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। সকালে মিলগেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নগরীর নতুন রাস্তা মোড়সহ খুলনা-যশোর মহাসড়কের তিনটি স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। অবরোধের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। 
এদিকে ঈদ এগিয়ে আসছে। এখনও শ্রমিকের বকেয়া মজুরি প্রদান ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এজন্য শ্রমিকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এক সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া মজুরির প্রদানসহ সাত দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে মন্ত্রীর এ আশ্বাস শ্রমিকরা আস্থায় নিতে পারেননি। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিকরা বলেন, ১০ দিন ধরে (শুক্রবার বাদে) খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের চাকা বন্ধ। কর্মবিরতি চলাকালেই প্রথম রমজান থেকে শ্রমিকরা বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, ইফতার ও নামাজ আদায় করছেন। প্রতিদিনই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। 
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের ১০ থেকে ১৩ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। টাকার অভাবে অর্ধাহারে-অনাহারে শ্রমিকদের জীবন কাটাতে হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রƒক্ষেপ নেই। বকেয়া মজুরি প্রদান ও মজুরি কমিশনসহ ৯ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের এ আন্দোলন চলবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ১৫ এপ্রিল বিজেএমসিতে বৈঠকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। শ্রমিকরা সময়মতো মজুরি না পেয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় বকেয়া সব টাকা একসঙ্গে প্রদান না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাব আমরা। এদিকে আন্দোলন আরও জোরদার এবং পাট শিল্পকে রক্ষা করতে ৯ মিলের শ্রমিকদের নিয়ে যুব পাটশিল্প রক্ষা কমিটি গঠন করেছে। প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিলের শ্রমিক মো. নুর ইসলামকে আহ্বায়ক ও জেজেআই জুট মিলের শমসের আলমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।