আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সাগর সেঁচে মুক্তা নয় মিলছে প্লাস্টিক

আলোকিত ডেস্ক
| শেষ পাতা

পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সমুদ্র খাতের গভীরতম বিন্দুতে নেমে রেকর্ড গড়লেন মার্কিন অভিযাত্রী ভিক্টর ভেসকোভো। অজানা প্রাণ আবিষ্কারের আনন্দ তো ছিলই, কিন্তু তাকে সবচেয়ে বেশি যা অবাক করেছে তা হলো, প্লাস্টিক বর্জ্য! 

প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চের এ গভীরতম বিন্দুকে ‘চ্যালেঞ্জার্স ডিপ’ বলেই চেনেন অভিযাত্রীরা। গেল তিন সপ্তাহে অন্তত চারবার সাবমেরিনে চেপে সেখানে ডুব দিয়েছিলেন ভেসকোভো। উদ্দেশ্য ছিল অজানা সামুদ্রিক জীবনকে জানা এবং সমুদ্র তলদেশের পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা। চারবারের চেষ্টায় তিনি পৌঁছান সমুদ্রের প্রায় ১০ হাজার ৯২৮ মিটার গভীরে। নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ভেসকোভোর দাবি, যেখানে এখনও মানুষের পা পড়েনি, সেখানেও প্লাস্টিক। চারবারের অভিযানে একবার টানা ৪ ঘণ্টা সমুদ্র তলদেশে কাটান ভেসকোভো। তিনি জানান, সেবার লম্বা লম্বা পায়ের চিংড়ি জাতীয় এক ধরনের অদ্ভুত প্রাণী দেখেছেন। প্রায় স্বচ্ছ দেখতে সমুদ্র শসা জাতীয় প্রাণীও দেখেছেন। আরও বেশ কয়েকটি অদ্ভূত প্রাণী তার নজরে এসেছে। তবে বিষণœ করেছে, এত গভীরতায় ভাঙা ধাতব খ- আর প্লাস্টিকের টুকরোর উপস্থিতি। সম্প্রতি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে টন টন জঞ্জাল সরানোর খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তার দায় বর্তায় অভিযাত্রীদের উপরেই। কিন্তু ‘চ্যালেঞ্জার্স ডিপ’? ভেসকোভোর আগে মাত্র দুইবার এর কাছাকাছি গভীরতায় নামার সাহস দেখিয়েছে মানুষ। ১৯৬০ সালে প্রথমবার সাবমেরিন পৌঁছায় ১০ হাজার ৯১২ মিটার গভীরে। সৌজন্যে মার্কিন নৌবাহিনী। তারপরে ২০১২ সালে। সেবার কানাডার চিত্র পরিচালক জেমস ক্যামেরন ১০ হাজার ৯০৮ মিটার নেমে প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেন। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ, এ মুহূর্তে সাত সাগরের তলদেশে জমা জঞ্জালের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টন। সমুদ্র-দূষণের মাত্রা এতটাই বেশি যে গভীর সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানো তিমি-জাতীয় প্রাণীর পেটেও প্লাস্টিকের কণা মিলছে। ভেসকোভোর মতে, এবার মারিয়ানা ট্রেঞ্চে প্লাস্টিকের উপস্থিতি সচেতনতা বাড়াবে। মহাসাগর যে ময়লা ফেলার জায়গা নয়, তা বুঝতে হবে। সমুদ্র বাঁচাতে আরও কড়া নীতি প্রণয়ন করতে হবে। আনন্দবাজার