আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

টার্কির মাংসে প্রোটিন বেশি কোলেস্টরেল কম

গরু-খাসির বিকল্প টার্কি

আলোকিত ডেস্ক
| সুসংবাদ প্রতিদিন

টার্কি বন্যপাখি হলেও এখন এটি গৃহপালিত পাখি। এ পাখি বাড়িতে খমার বা শেড তৈরি করেও পালন করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কি পাখির মাংস বেশ জনপ্রিয়। স্বল্প পুঁজি ও অল্প পরিশ্রমে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের উৎস হতে পারে টার্কি পালন। যারা নতুন কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিতে চাইছেন তাদের জন্য টার্কি পালন একটি আদর্শ ব্যবসা। 

পাখির মাংসের মধ্যে হাঁস, মুরগি, কোয়েল অথবা তিতির পাখির চেয়েও টার্কির অবস্থান অনেক ওপরে। টার্কি এখন মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। টার্কির মাংসে অন্য মাংসের তুলনায় প্রোটিন বেশি কিন্তু কোলেস্টরেল কম। যেখানে গরু কিংবা খাসির মাংসে কোলেস্টরেল ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ সেখানে টার্কি কোলেস্টরেল শূন্য।

আমাদের দেশের বাইরে যে কোনো দেশে টার্কি ভীষণ জনপ্রিয়। যে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান অথবা রাজকীয় খাদ্য হিসেবে টার্কির মাংস সমাদৃত। বিশ্বে বেশি টার্কি পালন করা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও ফ্রান্সে। এ তালিকায় আছে ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশ। টার্কির জনপ্রিয়তা বাড়ছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতেও। তবে বাংলাদেশেও এখন ব্যক্তিগত উদ্যোগে টার্কি চাষ শুরু হয়েছে। বেকার যুবকদের মাঝে টার্কি পালনে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। শহর ও গ্রামের নারীরা দেশি মুরগির মতো এখন টার্কি পালনের দিকে ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশের প্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কয়েক বছরের মধ্যে টার্কি পালন ব্যাপক বিস্তার লাভ করবে। টার্কি পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে একে দেশি মুরগির মতো পালন করা যায়। এ পাখিটির রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বেশি। তাই ঝুঁকিও কম। টার্কি লতাপাতা, কলমি শাক ও কচুরিপানা খায়। এরা পাতাকপি, লাউ প্রভৃতি খেতেও পছন্দ করে। ফলে টার্কির খাবারের জোগান দেওয়াটা ব্যয়বহুল নয়। টার্কিকে সামান্য দানাদার খাবারও দিতে হয় প্রোটিন ও আমিষের ঘাটতি পূরণের জন্য।

টার্কির মাংস ভবিষ্যতে গরু অথবা খাসির মাংসের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, আয়রন, পটাশিয়াম, বি-৬ ও ফসফরাস থাকে। এ উপাদানগুলো মানুষের শরীরের জন্য উপকারী। নিয়মিত এ মাংস খেলে কোলেস্টরেল কমে যায়। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন বেশি থাকায় তা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডায়বেটিসের রোগীরাও টার্কির মাংস অনায়াসে খেতে পারেন। টার্কি মুরগি বাণিজ্যিকভাবে পালন করতে খরচ অনেক কম। প্রথমেই আসা যাক বিদ্যুৎ খরচের বিষয়ে। ব্রয়লার কিংবা লেয়ার মুরগির জন্য রাতে আলোর প্রয়োজন হয় খামারে। অথচ টার্কি রাতে খাদ্যগ্রহণ না করে ঘুমায়। ফলে আলো জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না। ব্রয়লার মুরগি গরম সহ্য করতে পারে না। ফলে ফ্যান চালিয়ে বাতাসের ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু টার্কির জন্য অতিরিক্ত গরম না হলে ফ্যানের বাতাস প্রয়োজন হয় না। আর এতে করে বিদ্যুৎ খরচ কমে যায় প্রায় ৯০ শতাংশ। 
একটি টার্কি মুরগি বছরে গড়ে ডিম দেয় ১৫০ থেকে ১৮০। এরা ডিম দেওয়া শুরু করে ২৬ থেকে ২৮ সপ্তাহ বয়স থেকে। এ সময় একটি টার্কির ওজন হয় ৮ থেকে ১০ কেজি। শীতকালে টার্কির যাতে ঠান্ডা না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হয়। টার্কির খামারে এ সময় চারদিক পর্দা, ত্রিপল অথবা প্লাস্টিকের পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। তবে বাতাস চলাচলের জন্য ঘর বা শেডের ওপরের অংশে এক ফুট বা সামান্য ফাঁকা রাখতে হবে। না হলে বন্ধ ঘরে এমানিয়া গ্যাস তৈরি হয়ে টার্কি অসুস্থ হয়ে পড়ে।