আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

যুবসমাজের তাকওয়া অনুশীলন

মো. আমজাদ হোসাইন
| প্রথম পাতা

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, আত্মউন্নয়ন ও জীবনকে পূতপবিত্র করার অনুশীলনের মাস। এ মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। এ মাসেই সত্যমিথ্যার লড়াই তথা বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) যখন ইসলাম প্রচার করছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে যারা সাহাবি বা সঙ্গী ছিলেন, তারা বেশিরভাগই ছিলেন যুবক। তারা ছিলেন যুদ্ধের ময়দানে দক্ষ সৈনিক আবার ইবাদত বন্দেগিতেও ছিলেন অগ্রণি। মানবজীবনে আত্মিক ও দৈহিক গুণাবলির বিকাশ ও চর্চার যেসব আয়োজন ইসলাম করেছে তন্মধ্যে অন্যতম হলো মাহে রমজানের রোজা। রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষকে পাপাচার, অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে, এক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা অবশ্যই অগ্রগণ্য। কেননা, রাসুলে পাকের জামানায়ও তারাই ছিলেন দ্বীনের পথে অগ্রগামী। দেখা যায়, একজন যুবক যদি রমজান মাসে সঠিক নিয়মে রোজা রাখে, তারাও পূতপবিত্র জীবন লাভ করতে পারে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা ঈমান ও সওয়াবের প্রত্যাশায় পালন করল, আল্লাহ তার সব গোনাহ মাফ করে দিবেন। (বোখারি,  হাদিস নং-১৯০১)। রোজার 

অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তা মানুষকে অজ্ঞতা, অশ্লীলতা ও মূর্খতা থেকে হেফাজত করে। কাজেই একজন যুবক যদি রোজা রাখে তবে সে রোজা থেকে অধিক মাত্রায় কল্যাণ লাভ করবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ। অতএব রোজা রেখে কেউ অশ্লীলতা করবে না, মূর্খতার আচরণ করবে না। কেউ যদি তাকে গালি দেয় অথবা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে আসে, তবে তাকে যেন বলে দেয়, আমি রোজাদার (তাই তোমার এমন আচরণের প্রতিউত্তর আমি দিতে পারছি না)। (বোখারি হাদিস নং-৯৪)। বস্তুত এমন পবিত্র চেতনায় রোজা পালন মানুষকে অন্যায় আচরণ, মিথ্যার অভ্যাস বা মিথ্যা কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রেখে একটি পবিত্র সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে। 
রোজার প্রভাবে মানুষের মনে অপরাধপ্রবণতা কমে যায়। অপরাধপ্রবণতা যত কম থাকে সমাজ তত সুস্থ ও সুন্দর থাকে। সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে। বর্তমান সমজের শান্তিশৃঙ্খলার পক্ষে মারাত্মক হুমকি হলো মাদক। মাদক একটি নেশাদ্রব্য, যা সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তছনছ করে ফেলছে যুবসমাজকে। মদ, জোয়া, পাশাসহ যাবতীয় নেশাকে আল্লাহ তায়ালা আল কোরআনের সূরা মায়েদায় ৯০ ও ৯১ আয়াতে হারাম ঘোষণা করেছেন। এগুলোকে শয়তানি কার্যক্রমের অংশ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। রোজাদার ব্যক্তি মাদক স্পর্শ করে না, মাদকের ধারে-কাছেও সে যায় না। আল্লাহর ভয় ও রোজা রাখার কারণে তার মনে পবিত্রতার ভাব বজায় থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, সিয়াম হলো ঢালস্বরূপ। যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল যেমন জীবনকে হেফাজত করে ঠিক তেমনি সিয়াম সাধনা মানবজীবনকে সব পাপাচার, গোনাহের কাজ থেকে হেফাজত করে। (সুনানে আন-নাসায়ি হাদিস নং-২২৩১)। আর সিয়ামের এ মাসে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেন এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেন, তাই মারদুদ অভিশপ্ত শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে আটকে রাখেন। তাই শয়তানি কাজের প্রভাব সমাজে কমে যায়। 
রোজাদার ব্যক্তির মনে গোনাহের কাজ করা তো দূরের কথা, গোনাহে জড়িত হওয়ার বিষয়ে সে চিন্তাও করে না। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কাজ ও কথা এবং আচরণ পরিত্যাগ করতে পারেনি, তার পানাহার বর্জন করাতে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বোখারি ১ম খ-) 
মাদক একটি ভয়াবহ গোনাহ এবং অপরাধ। রোজামুখে কেউ এ অপরাধে  জড়াতে পারে না। মাদকের নেশা ত্যাগ করার ক্ষেত্রে সিয়াম সাধনার সাহায্য নেয়ার বিরাট সুযোগ রয়েছে রমজানে। অপরাধ ও মাদকমুক্ত জীবন গঠনে সিয়াম সাধনায় আল্লাহর ভয় ও মহব্বত এবং ইবাদত বন্দেগি বা সৎ ও সুন্দর জীবন চর্চার অফুরান সওগাত রয়েছে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য। 
লেখক : উপাধ্যক্ষ, ইছাখালী ফাজিল মাদ্রাসা, পলাশ, নরসিংদী