আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সেই কৃষকের ধান কেটে দিলেন শিক্ষার্থীরা

আলোকিত ডেস্ক
| প্রথম পাতা

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বানকিনা গ্রামে ধানক্ষেতে আগুন দেওয়া কৃষক আবদুল মালেক সিকদারের খেতের ধান বুধবার কেটে দেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা - আলোকিত বাংলাদেশ

ধানের দাম কম ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় কৃষক আবদুল মালেক প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তার ধান ক্ষেতে রোববার দুপুরে আগুন দেন। এ ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকেই দেশের সচেতন শিক্ষার্থীরা ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ করে। ছাত্রসমাজ এ প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করে বুধবার টাঙ্গাইলের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা কৃষক আবদুল মালেকের ক্ষেতের ধান কেটে দেন এবং রাজশাহীতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পাণন করে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের আবদুল মালেক সিকদারের ধান কেটে দিয়েছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের 

শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে জেলার সরকারি সা’দত কলেজ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ, লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজসহ বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আবদুল মালেকের খেতে ধান কেটে দেন।
শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধি ও ধানের দাম কম হওয়ায় আবদুল মালেক প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তার ধান ক্ষেতে আগুন দেন। এ ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে।
লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাফি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি শ্রমিকের মূল্য প্রতি মণ ধানের মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করেছেন এক কৃষক। মানবিক কারণে আমরা মালেক কাকার ক্ষেতের ধান কেটে দিয়েছি।
মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের শিক্ষার্থী মো. আল আমিন বলেন, ধানের দামের তুলনায় ধান কাটা শ্রমিকের মূল্য অনেক বেশি। প্রায় দেড় মণ ধানের দাম দিয়ে একজন ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি হয়। সেই দিক বিবেচনা করে আমরা ধান কেটে দিয়েছি।
একই কলেজের শিক্ষার্থী মো. সুজন বলেন, ধান কাটা শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ার পরও শ্রমিক সংকট রয়েছে। ফলে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। সেজন্য আমরা বিভিন্ন কলেজ থেকে এসেছি মালেক মিয়াকে সহযোগিতা করার জন্য।
আবদুল মালেক বলেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। শ্রমিক না পাওয়ায় ও ধানের দাম কম হওয়ায় প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি ক্ষেতে আগুন দেন। শিক্ষার্থীরা আমার ক্ষেতের ধান কেটে দেওয়ায় আমি অনেক খুশি।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা এলাকার আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান। মালেক সিকদারের এ প্রতিবাদে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকার অধিকাংশ কৃষক। পাকা ধানে আগুন দেখে অনেকেই ছুটে আসেন।
রাজশাহী : রাজশাহীতে রাস্তায় ধান ছিটিয়ে দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকালে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তারা ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে একই কর্মসূচি পালিত হয়। 
জিরোপয়েন্টের মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী আবদুল মজিদ অন্তর বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ধানের দর প্রতি কেজি ২৬ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট সে দরে ধান কিনছে না। কৃষক যদি ধানের ন্যায্যমূল্য না পায় তাহলে ছাত্রসমাজ চুপ করে বসে থাকবে না। আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনেও বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। বক্তব্য দেন সুমন মোড়ল, মাসুদ রানা, নুসরাত জাহান আভা, মেহেদি হাসান, মহাব্বত হোসেন মিলন, তানভীর খন্দকার, আবদুল্লাহ নীল প্রমুখ।
তারা বলেন, উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজারমূল্য কম হলে কৃষক ধান উৎপাদনে আগ্রহ হারাবে। ফলে আগামীতে ধান আমদানি ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আর তখন ঠিকই বেশি দামে ধান বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হবে। তাই কৃষকের পাশাপাশি দেশের সব মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারকে ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম খলিল।
দিনাজপুর : কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে দিনাজপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এবং সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ‘করব না আর ধান চাষ, দেখবো তোরা কী খাশ’ স্লেøাগান দেওয়া হয়। 
মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষণ পরিষদ দিনাজপুরের আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম, পরিষদ নেতা রুবেল রাজ, মুশফিকুর রহমান, তারেক রেজা, মাহমুদুল আলম, মো. একরামুল হক, মো. হিমেল, সাজ্জাদ হোসেন ও আবদুল মোমেন। 
বক্তারা বলেন, আমরা যতই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তারপরও আমরা কৃষকের সন্তান। আজ আমাদের পরিবার ধানের দাম না পেয়ে পথে বসতে চলেছে। অথচ সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কৃষক যে ধান উৎপাদন করে তারচেয়ে অনেক কম ধান সরকার কৃষকের কাছ থেকে কিনে। তাহলে কৃষক বাকি ধানগুলো কীভাবে বিক্রি করবে। অবিলম্বে কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য দিয়ে তাদের বাঁচানোর জন্য আহ্বান জানান বক্তারা। 
বক্তারা মানববন্ধনে তাদের পাঁচ দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলোÑ ধানসহ সব কৃষিপণ্যের খরচ অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে; কৃষিতে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে; ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে; কৃষিতে ভর্তুকি বাড়াতে হবে ও সহজশর্তে কৃষি ঋণ দিতে হবে।