আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বাংলাদেশের লক্ষ্য ২৯৩

স্পোর্টস রিপোর্টার
| প্রথম পাতা

আগেই ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় গতকাল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার। তবে পেসার আবু জায়েদ রাহীর জন্য সেটি ছিল ‘অগ্নি পরীক্ষার’। বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রাহী। যা আরও বেড়েছিল ত্রি-দেশীয় সিরিজে নিজের অভিষেক ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উইকেট শূন্য থাকার পর। গতকাল টুর্নামেন্টের লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে রাহী দেখালেন তার বোলিং কারিশমা। নিজেকে প্রমাণের ম্যাচে ৫ উইকেট পেলেন এই ডানহাতি পেসার। তবে পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরি ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যই ছুড়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ২৯৩ রানের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে স্বাগতিকরা।

বিশ্বকাপের আগে সাইড বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের পরখ করতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে চার পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ডাবলিনে ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব আগে ব্যাট করতে নেমে পল স্টার্লিং আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ২৯২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে আইরিশরা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। রুবেল হোসেনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে 

প্রথম সিøপে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ হন জেমস ম্যাককলম। ১৮ বলে ৫ রান করেন আইরিশ ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বিলবার্নির জুটিকেও বেশিদূর এগোতে দেননি রাহী। ২০ রান করা বিলবার্নিকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে নিজের প্রথম ওয়ানডে উইকেটের স্বাদ পান। ৫৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে ছিল আয়ারল্যান্ড। সেখান থেকে তৃতীয় উইকেটে ১৭৪ রানের বিশাল এক জুটি গড়ে তোলেন পল স্টার্লিং আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। পরপর দুই বলে সাব্বির ও সাইফউদ্দিনের হাতে ‘জীবন’ পাওয়া পল স্টার্লিং তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। ১৪১ বলে ১৩০ রান করে ফেরেন তিনি। ৪৭তম ওভারে আবু জায়েদ রাহীর চতুর্থ শিকার হওয়ার আগে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান। স্টার্লিংয়ের বড় জুটির সঙ্গী উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ফিরেছেন। তিনিও জীবন পেয়েছেন শুরুর দিকে। দারুণভাবে সুযোগ কাজে লাগানো ইনিংসটি তার ৯৪ রানের। আইরিশ অধিনায়ক ৭ চার ও ২ ছক্কায় ১০৬ বলে সাজিয়েছেন ইনিংসকে। পরে সেঞ্চুরিয়ান স্টার্লিংয়ের সঙ্গে কেভিন ওব্রায়েন (৩) ও উইকেটরক্ষক গ্যারি উইলসনকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূরণ করেন রাহী। 
৪০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ১৯৩ রান ছিল আইরিশদের। শেষের দিকে টাইগার বোলাররা অল্প ব্যবধানে বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নিলেও রানটা ঠিকই তিনশ’র কাছাকাছি নিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। স্বাগতিকরা শেষ ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৯৯ রান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল রাহী ৯ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। সমান ওভারে ৪৩ রান দেওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিজের ২ উইকেটের দুটিই নিয়েছেন ইনিংসের শেষ ওভারে। আইরিশ অলরাউন্ডার মার্ক অ্যাডায়ার তার বলে হিট-উইকেট আউট হয়েছেন। সাকিব আল হাসান বেশ ব্যয়বহুল ছিলেন। ৯ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। তার ব্যক্তিগত নবম ওভারে প্রতিপক্ষ তুলেছে ২৩ রান। যেটা ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে খরুচে ওভার সাকিবের। রুবেল হোসেন ৭ ওভারে ৪১ রান ব্যয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। ইনিংসের মাঝপথ পেরিয়ে বোলিংয়ে আসা মাশরাফি ৮ ওভার বলে হাত ঘুরিয়ে ৪৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। উইকেট না পেলেও মিতব্যয়ী বোলিংয়ে সবার সেরা মোসাদ্দেক। ৮ ওভার বল করে ৩২ রান দিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজের প্রথম সাক্ষাতের ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল, তাতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় বাংলাদেশকে।