আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ত্রিদেশীয় সিরিজ

হেসে খেলে আয়ারল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

আবু সুফিয়ান শুভ
| প্রথম পাতা

বাংলাদেশকে ২৯৩ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়েছে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। ব্যাটিংয়ে আছেন সাকিব আল হাসান (৪৪) এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জয়ে দিকে এগিয়ে চলছিল; কিন্তু সাকিব ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ব্যক্তিগত ৫০ রান করে। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন মোসাদ্দেক। মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেকে সঙ্গে নিয়ে যখন জয়ে খুব কাছে চলে যায়, ঠিক সেই সময় মোসাদ্দেক ব্যক্তিগত ১৪ রান করে সাজঘরে ফেরত যান। বড় রান তাড়ায় লিটন, তামিম, সাকিবের ফিফটিতে ৪৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে। বল বাকি ছিল আরও ৪২টি। ১৭ মের ফাইনালে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আয়ারল্যান্ডের দলপতি উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। বুধবার ডাবলিনে বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে চারটায় শুরু হয় ম্যাচটি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে আইরিশরা তোলে ২৯২ রান। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ওপেনার পল স্টার্লিং। আবু জায়েদ রাহি নিয়েছেন ৫ উইকেট। ২৯৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং জুটিতে আসে ১১৭ রান। ফিফটি করে বিদায় নেন তামিম ইকবাল (৫৭)।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে বয়েড রানকিনের ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে তামিম ৫৩ বলে ৯টি বাউন্ডারি হাঁকান। বিশ্বকাপের আগে সাইড বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের পরখ করতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে চারটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ডাবলিনে ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব আগে ব্যাট করতে নেমে পল স্টার্লিং আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ২৯২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে আইরিশরা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। রুবেল হোসেনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে প্রথম স্লিপে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ হন জেমস ম্যাককলম। ১৮ বলে ৫ রান করেন আইরিশ ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে পল স্টার্লিং ও অ্যান্ডি বিলবার্নির জুটিকেও বেশি দূর এগোতে দেননি রাহী। ২০ রান করা বিলবার্নিকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে নিজের প্রথম ওয়ানডে উইকেটের স্বাদ পান। ৫৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে ছিল আয়ারল্যান্ড। সেখান থেকে তৃতীয় উইকেটে ১৭৪ রানের বিশাল এক জুটি গড়ে তুলেন পল স্টার্লিং আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। পরপর দু’বলে সাব্বির ও সাইফউদ্দিনের হাতে ‘জীবন’ পাওয়া পল স্টার্লিং তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। ১৪১ বলে ১৩০ রান করে ফেরেন তিনি। ৪৭তম ওভারে আবু জায়েদ রাহীর চতুর্থ শিকার হওয়ার আগে ৮ চার ও ৪টি ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান। স্টার্লিংয়ের বড় জুটির সঙ্গী উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড সেঞ্চুরির খুব কাছে যেয়ে ফিরেছেন। তিনিও জীবন পেয়েছেন শুরুর দিকে। দারুণভাবে সুযোগ কাজে লাগানো ইনিংসটি তার ৯৪ রানের। আইরিশ অধিনায়ক ৭ চার ও ২ ছক্কায় ১০৬ বলে সাজিয়েছেন ইনিংসকে। পরে সেঞ্চুরিয়ান স্টার্লিংয়ের সঙ্গে কেভিন ওব্রায়েন (৩) ও উইকেটরক্ষক গ্যারি উইলসনকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূরণ করেন রাহী। ৪০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ১৯৩ রান ছিল আইরিশদের। শেষের দিকে টাইগার বোলাররা অল্প ব্যবধানে বেশ কয়েকটি উইকেট তুলে নিলেও রানটা ঠিকই তিনশোর কাছাকাছি নিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। স্বাগতিকরা শেষ ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৯৯ রান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল রাহী ৯ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। সমান ওভারে ৪৩ রান দেওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নিজের ২ উইকেটের দুটিই নিয়েছেন ইনিংসের শেষ ওভারে। আইরিশ অলরাউন্ডার মার্ক অ্যাডায়ার তার বলে হিট-উইকেট আউট হয়েছেন। সাকিব আল হাসান বেশ ব্যয় বহুল ছিলেন। ৯ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। তার ব্যক্তিগত নবম ওভারে প্রতিপক্ষ তুলেছে ২৩ রান। যেটা ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে খরুচে ওভার সাকিবের। রুবেল হোসেন ৭ ওভারে ৪১ রান ব্যয়ে পেয়েছেন ১ উইকেট। ইনিংসের মাঝপথ পেরিয়ে বোলিংয়ে আসা মাশরাফি ৮ ওভার বলে হাত ঘুরিয়ে ৪৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। উইকেট না পেলেও মিতব্যয়ী বোলিংয়ে সবার সেরা মোসাদ্দেক। ৮ ওভার বল করে ৩২ রান দিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজের প্রথম সাক্ষাতের ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল, তাতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় বাংলাদেশকে।