আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

তালিকা দিতে ফের নির্দেশ হাইকোর্টের

ক্ষতিকর দুধ-দই উৎপাদনকারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
| প্রথম পাতা

ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণ করে ক্ষতিকর দুধ-দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাসহ একটি জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করতে আবারও নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদন দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও 

বিএসটিআইকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) করা গবেষণার পক্ষে ব্যাখ্যা দিতে ল্যাবটির প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসীকে ২১ মে হাজির হতে বলেছেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদন দাখিল করতে সময় চেয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের করা আবেদনের শুনানিতে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
৮ মে এক আদেশে কোন কোন কোম্পানির দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের নাম-ঠিকানাসংবলিত তালিকা ১৫ মের মধ্যে দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্টরা তালিকা বা প্রতিবেদন না দেওয়ায় আবারও নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট। 
দুধ ও দইয়ে ভেজালসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ৬ মে হাইকোর্টে দাখিল করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনের বলা হয়, বাজার থেকে সংগৃহীত কাঁচা তরল দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতেই সিসা ও অ্যান্টিবায়োটিক অনুজীব পাওয়া গেছে। প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনার মধ্যে ১৮টিতেই ভেজাল পাওয়া গেছে। এছাড়া দুধে ও দইয়ে উচ্চমাত্রার বিভিন্ন রাসায়নিক পাওয়া গেছে। তবে কোন কোন কোম্পানির দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা ওই প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ১১ ফেব্রুয়ারি এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণ করে একটি জরিপ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। একইসঙ্গে দুধে সিসা মিশ্রণকারীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, দুগ্ধজাত খাবারে ভেজাল প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদ-) নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। জবাব দিতে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্যে ভেজালের বিষয়ে কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব হাইকোর্ট।