আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

উত্তরখানে তিন লাশ

খোলেনি মৃত্যুর রহস্যজট

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

রাজধানীর উত্তরখানে এক পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুইজনকে হত্যার পর একজন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। 

তবে মা ও ছেলেমেয়ের মধ্যে কে কাকে খুন করেছে, আর কে আত্মহত্যা করেছে, তা বুঝতে ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।
বুধবার সোহেল মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থল এবং পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী দেখা যায়, দরজা লক ছিল ও ভেতর থেকে ছিটকিনি মারা ছিল। শাবল দিয়ে তা ভাঙা হয়েছে। দুটি কক্ষের বিছানায় রক্ত ও বমি পাওয়া গেছে। সেগুলো সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিআইডিতে দেওয়া হয়েছে। ঢামেকের এই চিকিৎসক বলেন, ডাইনিং টেবিলে কীটনাশকের বোতল ও ঘুমের ওষুধের প্যাকেটে দুটি ওষুধ পাওয়া গেছে। ওই প্যাকেটে ১০টি ট্যাবলেট থাকার কথা ছিল। আটটি নেই। পুলিশ দুটি ছুরি ও একটি বটি জব্দ করেছে। তা থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সোহেল মাহমুদ আরও বলেন, তিন দিন পর লাশ উদ্ধার হওয়ার কারণে আঘাতের আলামত অনেক বদলে গেছে। কিন্তু দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা, ভেতরে চিরকুট পাওয়া এসব দেখে আত্মহত্যা ধারণা হচ্ছে। কিন্তু ছেলের গলা কাটার ধরন দেখে আমাদের সন্দেহ আছে। এটি আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না। সব মিলিয়ে বলা যায়, কেউ একজন দুইজনকে মেরে আত্মহত্যা করেছে। রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিস্তারিত বলা যাবে।
এর আগে সোমবার তিনজনের ময়নাতদন্তের পর ডা. সোহেল মাহমুদ বলেছিলেন, ওই তিনজনের মধ্যে মা জাহানারা বেগম মুক্তা (৪৮) এবং তার প্রতিবন্ধী মেয়ে আতিয়া সুলতানা মিমের (১৯) মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। আর জাহানারার ছেলে মহিব হাসান রশ্মির (২৭) মৃত্যু হয়েছে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে। তবে হত্যা, না আত্মহত্যা এমন ধন্দে রয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, ঘরের দুই জায়গায় দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। দুই চিরকুটের বক্তব্য একই, তবে হাতের লেখা আলাদা। তাতে লেখা ছিল, আমাদের মৃত্যুর জন্য আমাদের ভাগ্য এবং আমাদের আত্মীয়স্বজনের অবহেলা দায়ী। আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সম্পত্তি দান করা হোক। পুলিশের ধারণা, একটি চিরকুট ছেলের হাতে লেখা, অন্যটি মায়ের। তবে হত্যা, নাকি আত্মহত্যা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।