আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

মুক্তমনা লেখক ও আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মাহমুদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় বুধবার বনানী থেকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমতিয়াজ মাহমুদের নামে বনানী থানায় নতুন কোনো মামলা নেই। শুধু কোর্ট নির্দেশিত ওয়ারেন্ট তামিল করেছে পুলিশ। এ মামলার বাদী খাগড়াছড়ির, তার নাম শফিকুল ইসলাম। মামলা নং-১৭, যেটি ২০১৭ সালের ২২ জুলাই করা হয়েছিল। ওয়ারেন্ট কপিতে দেখা গেছে, চলতি বছর ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে প্রসেস হয়। ২৪ জানুয়ারি খাগড়াছড়ি জেলার এসপি স্বাক্ষর করে ঢাকায় পাঠান। পরে সেটি ৫ ফেব্রুয়ারি বনানী থানার পুলিশ গ্রহণ করে।
বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী বলেন, আমাদের কাছে তার নামে একটি ওয়ারেন্ট এসেছিল। আমরা কেবল ওয়ারেন্ট তামিল করেছি। ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ইমতিয়াজ মাহমুদের নামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (২০০৬) ৫৭/২ ধারায় একটি মামলা করেন। 
ইমতিয়াজ মাহমুদের পক্ষে আইনজীবী ও ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচি, শাখাওয়াত  হোসেন তছলিমসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, আসামি একজন আইনজীবী। তিনি ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট থেকে চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত জামিন পান। মনে হয় আগে থানায় কোনো ওয়ারেন্ট ছিল, সে কারণে তিনি গ্রেপ্তার হন। তিনি তো এ মামলায় জামিনে আছেন।
বিচারক বলেন, মামলার চার্জশিট তো দাখিল হয়েছে। ওয়ারেন্ট তো দেখা যাচ্ছে ১৯ জানুয়ারির। আসামি হয়তো কোনো কারণে হাজিরা দেননি বিধায় ওয়ারেন্ট হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান রচি আরও বলেন, অন্তত এক সপ্তাহের জন্য নির্দেশনা দিয়ে জামিন দেন। কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক ইমতিয়াজ মাহমুদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১ জুলাই ইমতিয়াজ মাহমুদ ফেইসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট লেখেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার ১নং সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সৌনিয়া গাঁ ও ব্রত চন্দ্র কারবারী পাড়া থেকে শতাধিক সেটেলার সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালাচ্ছে। এ গ্রামগুলোয় ত্রিপুরা আদিবাসীর বাস। রাত ১১টার দিকে সৌনিয়া গাঁকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে লুটপাট চালানো হয়েছে। ১১টার দিকে ব্রত চন্দ্র কারবারী পাড়ায় চলছিল নির্বিচারে হামলা, মারধর আর লুটপাট। গ্রামে ত্রিপুরা আদিবাসী মানুষজন প্রাণভয়ে পালাচ্ছে বাড়িঘর ছেড়ে। সেটেলাররা তো আমাদের থাকতে দেবে না ভাই।
ওই ঘটনায় ২০১৭ সালের ২১ জুলাই সদর থানার পুলিশের পরিদর্শক তারেক মো. আবদুল হান্নান বাদী হয়ে মামলা করেন। বুধবার দুপুরে বনানী থেকে ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।