আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

বললেন ভূমিমন্ত্রী

মাঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় মানুষ অতিষ্ঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক
| শেষ পাতা

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, মাঠ পর্যায়ে ভূমি প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম, দুর্নীতিতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। মানুষের ভোগান্তি ও আর্তনাদ হৃদয় দিয়ে অনুভব করুন। নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করা আর মীরজাফরি করা একই কথা। সময় আছে মাঠের সমস্যা সমাধান করুন। সচিব, চেয়ারম্যান, ডিজিদের বলছি, আমার সঙ্গে এক হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়–ন। অবস্থান পরিবর্তন হতেই হবে। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনে আপনাদের যে পরিমাণ ক্ষমতা দেওয়া আছে তার সবটুকু প্রয়োগ করুন। নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করুন। যে কোনো মূল্যে জনগণকে সেবা দিতেই হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের কথা শুনলে মানুষ ভয় পায়। এ অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ (ভূরেজ) অধিদপ্তরের উদ্যোগে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ হলে অনুষ্ঠিত ভূমি জরিপ ও রেকর্ড ব্যবস্থাপনায় অধিকতর গতিশীলতা আনয়নে ভূমি জরিপ কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণে করণীয় শীর্ষক একদিনের কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমার নিজ এলাকায় জরিপকাজ চলছে। মানুষের কী হয়রানি। আমার এলাকায় যদি এই অবস্থা হয় তাহলে দেশের অন্যান্য এলাকার অবস্থা কত ভয়াবহ হতে পারে তা চিন্তা করুন। মন্ত্রী বলেন, কথায় আছে, যে জায়গায় হয় জরিপ সে জায়গায় হয় গরিব। সাধারণ মানুষকে হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। ভূমি হচ্ছে মানুষের আস্থার জায়গা। সব কিছু বেঈমানি করতে পারে কিন্তু ভূমি কখনও বেঈমানি করে না। মনে রাখবেন মানুষকে কষ্ট দেওয়া বড় অপরাধ। আর মানুষের উপকার করা, বিপদগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, প্রাপ্ত সেবাটা সঠিকভাবে দেওয়াট হচ্ছে সদকায়ে জারিয়া। 
ভূমি ব্যবস্থাপনায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাঠ পর্যায়ে জনভোগান্তি দূর করা বক্তব্যের এক পর্যায়ে এ কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, জনস্বার্থে কর্মকর্তাদের নিজেদের নেতৃত্ব গুণাবলি প্রয়োগ করে অধীনস্থদের থেকে কাজ আদায় করে নিতে হবে। সবাইকে দ্রুত শোধরানোর পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের ধর্মীয় অনুশাসনের কথা স্মরণ করে দিয়ে বলেন, আমাদের কাজ আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। দেশের মানুষ যেন ভালোভাবে সেবা পেতে পারে এভাবে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। মন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোরভাবে নির্দেশ প্রদান করেন যেন তাদের দ্বারা মানুষের কোনো ধরনের হয়রানি না হয়। মন্ত্রী সবাইকে নিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। ভূমি ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন যেন টেকসই হয় সেজন্য আমরা বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, আমাদের মাইন্ডসেট চেঞ্জ করতে হবে। গতানুগতিক চিন্তা করলে কোনো লাভ হবে না। গুণগত পরিবর্তন আনতে পারলে এবং সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট করতে পারলে কাজ অনেক সহজ হবে। যারা এতে কমফোর্ট ফিল করবেন না তাদের ঠিক করে ফেলা উচিত তারা কী করবেন। যারা অন্যায় করবেন তারা কেউই রেহাই পাবেন না।
ভূমিমন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে ১ কোটি ৪৬ লাখ খতিয়ান ওয়েবসাইটে আপলোড দেওয়া হয়েছে, সেবাগ্রহীতাগণের সুবিধার্থে অভিযোগ কেন্দ্র গঠনের জন্য হটলাইন, সরকারের সাথে ভূমি সম্পর্কিত বিভিন্ন লেনদেনের জন্য ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুকরণের জন্য একটি পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, অনিবাসী বাংলাদেশিদের সেবা দেওয়ার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু এবং ল্যান্ড ব্যাংক করার বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধীন। এগুলো মূলত পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ইন্টিগ্রেটেড অটোমেশনের ভেতর নেওয়ার পর্যায়ক্রমিক ধাপ।
কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ এবং ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুল হান্নান। সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এ বছরের জুন মাসের মধ্যেই সমগ্র দেশে ই-নামজারি কার্যক্রম শুরু হবার সমূহ সম্ভাবনার কথা জানান। দুই শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাই ভূমি ব্যবস্থাপনার সমস্যার গভীরতা বোঝাতে গিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত জমি সংক্রান্ত ভোগান্তির কথাও উল্লেখ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. তসলীমুল ইসলাম। বক্তব্যের এক পর্যায়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ৭ ধারা নোটিশ জারির পর প্রায়ই দেখা যায়, মানুষকে হয়রানির উদ্দেশে মাঠ পর্যায়ে কোনো কোনো অসাধু চক্র যোগসাজশ করে আরেকজনকে দিয়ে টাইটেল মামলা করায়। ৩ এবং ৪ ধারার নোটিশ জারি করার পরই কেবল শেষবারের মতো ৭ ধারার নোটিশ জারি করা হয়। সুতরাং জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৭ ধারার নোটিশ জারির পর আর কোনো অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না এ মর্মে আমরা শিগগিরই পরিপত্র জারি করতে যাচ্ছি।