আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

শেষ হতে চলেছে সোনারগাঁয়ের লিচু

এরশাদ হুসাইন অন্য, সোনারগাঁ (না.গঞ্জ)
| দেশ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার লিচু স্বাদে অনন্য। তাই এর চাহিদা তুলনামূলকভাবে দেশের অন্য এলাকার লিচুর চেয়ে বেশি। মৌসুমের শুরুতেই সোনারগাঁয়ের লিচু বাজারে পাওয়া গেছে। মৌসুমের মাঝামাঝিতে অন্য এলাকার লিচু যখন বাজারে আসতে শুরু করেছে তখন সোনারগাঁয়ের লিচু শেষ হতে চলেছে। এ বছর অনুপযোগী আবহাওয়া থাকায় লিচুর আঁশ ও ফলন পূর্ণতা পায়নি। লিচু ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর মুনাফা একটু কম হবে। খাসনগর দীঘিরপাড় গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আবদুল জলিল মিয়া বলেন, ফল ধরার আগেই আমরা লিচুর মুকুল দেখে বাগান কিনি। 
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাদামি (পাতি) ও অন্যান্য লিচুর চাইতে কদমি লিচুর বাগান সবচেয়ে বেশি। বছরে একটি বাগান ৪ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। কদমি লিচুর চাহিদা বেশি থাকায় এর বাগান করতে আগ্রহী হয়ে পড়ছেন চাষি। সোনারগাঁয়ে কদমিসহ বোম্বাই, মোজাফফরপুরী, চায়না-৩, এলাচি ও বাদামি (পাতি) লিচুর চাষ হয়ে থাকে। প্রতি শ’ কদমি লিচু ৬০০ থেকে ৭০০ এবং পাতি লিচু ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবার আগে পাকে পাতি লিচু। পরে পাকে কদমি ও অন্যান্য লিচু। সবার শেষে পাকে বোম্বাই লিচু। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন শতাধিক লিচু বাগান রয়েছে। সবচেয়ে বেশি লিচু বাগান রয়েছে গোয়ালদী, বালুয়া দীঘিরপাড়, ইছাপাড়া, দুলালপুর, সেনপাড়া, অর্জুন্দী, কৃষ্ণপুরা, হাতকোপা, দরপত, ছাপেরবন্ধ, টিপরদী, হরিষপুর, ভট্টপুর, খাসনগর দীঘিরপাড়, চিলারবাগ, দৈলরবাগ, পানাম, গোবিন্দপুর, দত্তপাড়া, বাগমুছা, গাবতলী, হারিয়া, বৈদ্যেরবাজার, তাজপুর, সাদীপুর, বারদী, মোগরাপাড়া, সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর ও হামছাদী এলাকায়। উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার বলেন, সোনারগাঁয়ের মাটি ও আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তবে এ বছর অতিরিক্ত খরা, হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে লিচুর কিছু গুটি গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। তবে যা অবশিষ্ট ছিল সে লিচুর উৎপাদন তুলনামূলকভাবে ভালোই হয়েছে।