আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পিরোজপুরে বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক

সিডরে বিধ্বস্ত বাঁধ দায়সারাভাবে নির্মাণের অভিযোগ

হাসান মামুন, পিরোজপুর
| দেশ

পিরোজপুরের বলেশ্বর নদীর পাড়ে ইন্দুরকানি অংশে নির্মাণাধীন বাঁধ- আলোকিত বাংলাদেশ

বলেশ্বর নদীর পাড়ে ইন্দুরকানি অংশে নির্মাণ করা হচ্ছে বেড়িবাঁধ। তবে অপরিকল্পিত ও দায়সারাভাবে এ বাঁধ নির্মাণ করায় স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসবে না। ফলে নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থেকেই যাবে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের প্রলয়ংকরী সিডরে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল পিরোজপুরে। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা ইন্দুরকানি। কঁচা, বলেশ^র ও বিষখালী নদীবেষ্টিত এ উপজেলায় যথাযথ বেড়িবাঁধ না থাকায় এ উপজেলা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ফসল ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষতি হয়। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর পর ইন্দুরকানিতে শুরু হয় বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ। পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানি, ভা-ারিয়া ও কাউখালী উপজেলায় ১৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজস্ব খাত থেকে গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে ২৩ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্নির্মাণ শুরু হয়, যা এ বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইন্দুরকানি উপজেলায় রয়েছে ১১ কিলোমিটার বাঁধের নির্মাণ কাজ। 
তবে নির্মানাধীণ এ বাঁধ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ইন্দুরকানি উপজেলার মানুষ। অপরিকল্পিত ও মানহীনভাবে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ করেছেন তারা। শুধু মাটি দিয়ে নদীর কোলঘেঁষে বাঁধ নির্মাণ করা হলে, তা পুনরায় আবার ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। ফলে এ বাঁধ তাদের কোনো কাজেই আসবে না। বরং সরকারি অর্থের শুধু অপচয়ই হবে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী পুরোনো বাঁধের মাটি কেটে বর্তমানে বাঁধে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে জোয়ারের পানিতে সহজেই নির্মাণাধীন বাঁধটি নষ্ট হয়ে যাবে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে মাটির তৈরি এ বেড়িবাঁধে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হলে, বাঁধের কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি এ কর্মকর্তার। এজন্য একটি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। 
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদ আহম্মদ জানান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে পিরোজপুরের সাতটি উপজেলায় ২৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরই মধ্যে ইন্দুরকানি উপজেলায় বেড়িবাঁধ আছে ৫১ কিলোমিটার। ২০০৭ সালের সিডরে প্রায় সব বাঁধই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা যথাযথভাবে বাঁধটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।