আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৫-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

জমি বাড়ি বিদ্যালয় বিলীনের আশঙ্কা

সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনায় তীব্র ভাঙন

আবদুস ছামাদ খান, চৌহালী (সিরাজগঞ্জ)
| দেশ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা দক্ষিণ অঞ্চলে যমুনা নদীর ভাঙন- আলোকিত বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলে ভাঙছে নদী, বিলীন হচ্ছে চিরচেনা বসতভিটা, ফসলি জমি, আর কাঁদছে মানুষ। এক সময়ের বিত্তশালীরা অসহায় হয়ে খুঁজছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। তাদের করুণ আর্তনাদে যমুনা পাড় যেন দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ প্রতিদিনই আসছে যমুনার নির্লজ্জ ভাঙনের তা-বলীলা দেখতে। অসময়ে নদী ভাঙনের এমন চিত্র উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের খাসপুকুরিয়া, শাকপাল, রেহাইপুখুরিয়া, মিটুয়ানি, বাঘুটিয়া, চরসলিমাবাদ ও ভূতেরমোড় এলাকায়। বর্ষা যতই ঘনিয়ে আসছে নদীভাঙন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও সদিয়াচাঁদপুর ও স্থল ইউনিয়নে চলছে যমুনার ভাঙন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেড় মাসের ব্যবধানে নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত রেহাইপুখুরিয়া গ্রাম থেকে দক্ষিণে ভূতের মোড় পর্যন্ত ৯টি গ্রামের শতাধিক বসতভিটা, বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার রেহাইপুখুরিয়া পশ্চিম পাড়া, খাষপুখুরিয়া ও চরসলিমাবাদ ভূতেরমোড় গ্রামে চলছে ভয়াবহ ভাঙন। এতে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম আনসার আলী সিদ্দিকী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি। ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুহারা হয়ে পড়ছেন মানুষ। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে। চিরচেনা বসতভিটা, ফসল ও জমি হারিয়ে পথের ফকির হতে বসেছেন অনেকেই। স্থানীয়রা জানান, বর্ষার আগেই যমুনা রুদ্ররূপ ধারণ করায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে। বিশেষ করে চরসলিমাবাদ, চরসলিমাবাদ দক্ষিণপাড়া, ভূতেরমোড়, খাসপুখুরিয়ার চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুল মজিদ সরকার বাড়ি, আঞ্চলিক সড়ক, বহু তাঁত কারখানা, কয়েকশ’ ঘরবাড়ি, হাটবাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। 
ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে চরসলিমাবাদ দক্ষিণ পাড়া কবরস্থান, ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পয়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, চৌবাড়িয়া টেকনিক্যাল কলেজ, পয়লা হাইস্কুল, পয়লা দাখিল মাদ্রাসা, চৌবাড়িয়া স্কুলসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠান। যমুনার পূর্ব পাড় ভাঙনরোধে দফায় দফায় নদীর পাড় পরিদর্শন করা হয়েছে। অথচ রোধের কোনো লক্ষণ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবু তাহির বলেন, চৌহালী নদীভাঙন কবলিত এলাকা। এখানে ভাঙন রোধে  দ্রুত কাজ করা জরুরি। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য পাউবোকে অবহিত করা হয়েছে।