আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি
| সম্পাদকীয়

ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয় বলে তথ্য উঠে এসেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে। এটা নিঃসন্দেহে একটি ভয়াবহ তথ্য, যা মূলত নাজুক জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আমাদের সামনে তুলে ধরে। সোমবার ‘বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়,  ছয় মাস নিয়মিত বাজার তদারকি করে তারা এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। এতে দেখা গেছে, ১০০টি ফার্মেসির মধ্যে ৯৩টিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। আবার কোনো কোনো ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণের দীর্ঘদিন পরও সেটি বিক্রি করা হচ্ছে। আরও জানানো হয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ ধরনের প্রতারণা রোধে সারা দেশে তদারকি টিম গঠন করেছে। এসব টিম কখনও ক্রেতা সেজে আবার কখনও ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ফার্মেসিগুলোর কার্যক্রম নজরদারির আওতায় রেখেছে। ওষুধসংক্রান্ত অপরাধে সংস্থাটি এরই মধ্যে অন্তত দুই শতাধিক ফার্মেসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়, আবার কিছু কিছু ফার্মেসি সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সার্বিকভাবে সন্তোষজনক ফল যে পাওয়া যায়নি প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট হয়েছে।
পণ্যে ভেজাল এদেশে অভিনব কোনো বিষয় নয়। ফলে বিবিধ রোগের প্রকোপ লেগেই আছে। এ অবস্থা থেকে সুস্থতার লক্ষ্যে ভুক্তভোগী যখন চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ সেবন করবেন সেখানে ভেজাল থাকলে তার পরিণাম ভয়াবহ হওয়া স্বাভাবিক। সোজা কথায়, মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ওষুধ বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ। এসব ওষুধ অসুস্থ রোগীকে সুস্থতার বদলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ নিয়ে ওষুধ প্রশাসন কী ভাবছে তা আমরা অবহিত নই। তবে প্রকাশ যে, কয়েক মাস আগে ফার্মেসিগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধসংক্রান্ত একটি রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ওষুধ প্রশাসন বলেছিল এটি বাস্তবতাবিবর্জিত। কিন্তু ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিষয়টি বাস্তব। বিশেষজ্ঞের মতে, ওষুধের একটা মান বজায় রাখতে হয়। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কাছে যখন ওষুধ থাকে তখন ওষুধের একটা জীবন থাকে। কিন্তু বাইরে এলে সেটা অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ ফার্মেসি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নয়। কেমিক্যালের সঙ্গে তাপমাত্রার একটা সম্পর্ক আছে। তাপমাত্রার কারণে ওষুধের অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যায়। কোনো অবস্থাতেই এরকম ওষুধ বিক্রি করা যাবে না। যদি করে থাকে তবে তাদের অনায়াসে হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। 
সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষণীয়, দেশব্যাপী ব্যাঙের ছাতার মতো ফার্মেসি গড়ে উঠছে। কিন্তু এগুলো নিয়মনীতি এবং মান বজায় রাখছে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও তৎপর হতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগীয় সংস্থা, ওষুধ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। কোন স্থানে কয়টি ওষুধের দোকান থাকবে সেটি ঠিক করে দেওয়া যেতে পারে। প্রত্যেকটি ফার্মেসিতে একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট থাকার ব্যবস্থা জরুরি। জনস্বাস্থ্য নিয়ে ন্যূনতম হেলাফেলা প্রত্যাশিত নয়Ñ এ প্রত্যাশা পূরণ সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।