আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

পুলিশের জলকামান, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ : আহত ২২

বহিঃসমর্পণ বিল ঘিরে বিক্ষোভে উত্তাল হংকং

আলোকিত ডেস্ক
| আন্তর্জাতিক

বহিঃসমর্পণ বিলের প্রতিবাদে হংকংয়ের রাজপথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষোভকারীরা ষ ডেইলি মেইল

বিচারের জন্য লোকজনকে চীনের মূলভূখ-ে পাঠানোর সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত একটি বহিঃসমর্পণ বিলের বিরুদ্ধে বুধবার হংকংয়ের রাজপথে ব্যাপক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ হয়েছে। হংকংয়ের সরকারি দপ্তরগুলোর আশপাশের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেওয়ায় শহরের অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলটি অচল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রাবার বুলেট ছুড়েছে হংকং পুলিশ। এতে ২২ জনের মতো বিক্ষোভকারী আহত হন। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। 

প্রস্তাবিত বিলটিতে মূলত চীন ও তাইওয়ানে বন্দি বহিঃসমর্পণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু চীন এ আইনের সুবিধা নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের ওপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে সন্দেহ থাকায় বিষয়টি সেখানে এক রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
গত রোববার থেকে বহিঃসমর্পণ বিলের প্রতিবাদে হংকংয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চললেও নিজেদের সিদ্ধান্তে এখনও অনড় রয়েছে হংকং কর্তৃপক্ষ। হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম বলেছেন, বহিঃসমপর্র্ণ বিল বাতিলের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বেইজিংপন্থি নেতা ক্যারি ল্যামের ফেইসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাকে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন এক অ্যাক্টিভিস্ট ও উদ্যোক্তা। তিনি লিখেছেন, এটি ঠিক যে, যদি আপনি জোর করে সামনে এগোন, তাহলে সংসদের মাধ্যমে আইনটি পাস করিয়ে নিতে পারবেন। তবে এর রাজনৈতিক মূল্য হবে ভয়াবহ এবং তা হংকংয়ের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। 
বুধবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশিরভাগই তরুণ ও শিক্ষার্থী। এদিন শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও একপর্যায়ে তা সহিংস রূপ ধারণ করে। একদল বিক্ষোভকারী সরকারি একটি ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়া শুরু করে। এরপর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে পুলিশের জলকামানের হাত থেকে বাঁচতে বিক্ষোভকারীদের ছাতা ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
হংকংয়ের পুলিশ প্রধান স্টিফেন লো বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা থামাতেই হবে। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি ‘দাঙ্গা পরিস্থিতি’ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানান। 
হংকংয়ের ব্যবসায়ী নেতারাসহ আইনজীবী সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন এবং বিদেশি চেম্বার অব কমার্সগুলো বিলটি পাস করা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। বহিঃসমপর্ণ বিল পাস না করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরাও বুধবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এদিকে বুধবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে প্রস্তাবিত বিলটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে হংকংয়ের ৭০ আসনবিশিষ্ট আইন পরিষদ বিতর্কিত এ বহিঃসমর্পণ বিল নিয়ে দ্বিতীয় দফার বিতর্ক অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে। 
গত বছর হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের কোনো চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না। প্রস্তাবিত বিলে এমন সন্দেহভাজনদের ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়েছে। চীন জানিয়েছে, বিলটি পাস করার ব্যাপারে হংকং সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন বজায় থাকবে। বুধবার চীনের মুখপাত্র গেং শুয়াং একথা জানান। এ সময় হংকংয়ের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কভাবে কথা বলা এবং কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। বিবিসি, ডয়েচে ভেলে