আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

কবি আলাওল স্মরণে বাংলা একাডেমিতে আজ একক বক্তৃতা

| নিত্যজীবন

কবি আলাওল স্মরণে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। আজ বিকাল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হবে। বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। 

আলাওল আনুমানিক ১৬০৭-১৬৮০ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ফতেয়াবাদের অধিপতি মজলিস কুতুবের একজন অমাত্য। অভিজাত পরিবারের সন্তান হিসেবে আলাওল বাল্যকালে বাংলা, সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন। যুদ্ধবিদ্যা ও সংগীত বিষয়েও তার জ্ঞান ছিল। একবার বাবার সঙ্গে নৌকাযোগে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় পর্তুগিজ জলদস্যুদের দ্বারা তারা আক্রান্ত হন। এতে তার বাবা নিহত হন ও আলাওল আহত ও বন্দি অবস্থায় আরাকানে (বার্মা) নীত হন। তখন তার বয়স ছিল কম। আরাকানে তিনি একজন দেহরক্ষী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে মহন্তের গৃহে নাটগীত ও সংগীত শিক্ষকের কাজ করেন। এ সময় তার কবিপ্রতিভার স্ফুরণ ঘটলে প্রধান অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুরের (১৬৪৫-৫৮) আনুকূল্যে তিনি আরাকানের অমাত্যসভায় স্থান পান। পরে একে একে সৈয়দ মুসা (রাজ-অমাত্য), সুলায়মান (প্রধান অমাত্য), মুহাম্মদ খান (সৈন্যমন্ত্রী) ও মজলিস নবরাজ (রাজস্বমন্ত্রী) কবিকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। তিনি তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বই রচনার প্রেরণা পান। ১৬৫৯-৬০ সালে শাহ সুজা রোসাঙ্গে (আরাকান) আশ্রয়প্রার্থী হন এবং বিদ্রোহ করে সপরিবারে নিহত হন। এ বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলাওল ৫০ দিন কারাভোগ করেন এবং আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে ভিক্ষাবৃত্তি দ্বারা স্ত্রী-পুত্রসহ প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত করেন। শেষ বয়সে আধ্যাত্মিক গুরু মসউদ শাহ্ তাকে ‘কাদেরী খিলাফত’ প্রদান করেন।