আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

‘ছোট মাঠ’ ও ‘বিস্ফোরক রাসেল’ ভাবনা

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

ব্রিস্টলের বৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রত্যাশিত ১ পয়েন্ট হারানোয় হতাশ বাংলাদেশ দল। সেমিফাইনালে যেতে তাই শেষ ৫ ম্যাচে অন্তত চারটি জিততে হবে তাদের। হতাশা পুষে রাখারও ফুরসত নেই, ভাবতে হচ্ছে পরের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিয়ে, ভাবনা ভয়াল মূর্তি নিয়ে হাজির বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেলকে নিয়ে। যদিও নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যে দুর্ভাবনার কিছু দেখছেন না কোচ স্টিভ রোডস। সমস্যা দেখছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, টন্টনের মাঠ যে ছোট! নিজেদের দিন রাসেল-ক্রিস গেইলের ব্যাট এমনিতে চওড়া হয়ে যায়, স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট মাঠ পেলে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন, সেটা স্বাভাবিকও।

মঙ্গলবার ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর বিরূপ আবহাওয়া আর রিজার্ভ ডে না থাকার হতাশা জানিয়ে পরের ম্যাচ নিয়ে ভাবনার কথা জানান রোডস। শ্রীলঙ্কার মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজও র?্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ থেকে। তবে বিশ্বকাপে তারা এসেছে ঝড় তুলতে পারা সব ব্যাটসম্যান নিয়ে। র?্যাঙ্কিংয়ের হিসাব সরিয়ে নিজেদের দিনে গেইল, রাসেল, শাই হোপরা যে কাউকে উড়িয়ে দিতে পারেন। এদের মধ্যে রাসেলকে নিয়ে নিজেদের আলাদা ভাবনার কথা আড়াল করলেন না রোডস, ‘রাসেল ওদের সবচেয়ে বিস্ফোরক ক্রিকেটার, ভয়ংকর প্রতিপক্ষ সে। এ মুহূর্তে ব্যাট হাতের সময়ের সেরা হিটারদের একজন সে। তাকে বল করা ভীষণ কঠিন। যে কারও বিপক্ষে একাই ম্যাচ কেড়ে নেওয়ার সামর্থ্য আছে ওর। এছাড়া বিপজ্জনক আরও অনেকে আছে ওদের দলে।’
রাসেলকে নিয়ে ভাবনা আছে বটে, তবে সেই ভাবনাকে দুর্ভাবনায় পরিণত হতে দিতে চান না বাংলাদেশ কোচ। বরং ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে বরাবরই ভালো করা নিজেদের ক্রিকেটারদের ওপরই ভরসা তার, ‘কিন্তু এ-ও সত্য, আমাদেরও দারুণ কজন ক্রিকেটার আছে। সাদা বলে আমাদের সময়টাও ভালো যাচ্ছে। প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তার কিছু দেখছি না। বরং মনে হয়, আমাদের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নিয়ে ওরাও দুর্ভাবনায় থাকবে।’
টন্টনের মাঠ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ ছোট হওয়ায় কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তায় আছেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। মাঠের এক পাশ অনেক ছোট। সেখানে উইন্ডিজের খেলোয়াড়রা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন; কারণ শারীরিকভাবে সুঠাম দেহী ক্রিকেটারদের মিস হিটও ছয় হয়ে যেতে পারে। তাই বিষয়টি ভাবাচ্ছে মাশরাফিদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর গণমাধ্যম পর্বে টন্টনের মাঠ নিয়ে উদ্বেগ ঝরেছে মাশরাফির কণ্ঠে, ‘টন্টন অনেক ছোট একটা মাঠ, বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সহজ হবে না। আমার ভালো খেলা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, আমাদের জয়ের কোনো বিকল্প নেই।’
বিশ্বকাপের আগে প্রায় ২০ বছর কোনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট ম্যাচ হয়নি টন্টনে। মূলত মাঠের আকৃতির কারণেই এ মাঠে ম্যাচ তেমন হয় না, বিশ্বকাপ এলেই খোঁজ পড়ে। ১৯৮৩ সালে প্রথমবার এ মাঠ ব্যবহার করা হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য। এরপর ১৯৯৯ বিশ্বকাপে হয় দুটি ম্যাচ। তবে মাঝে ২০১৭ সালে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ৮ জুন নিউজিল্যান্ড-আফগানিস্তান ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট ফেরে এ মাঠে। গতকাল পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়াও খেলেছে টন্টনে। ফিঞ্চ-ওয়ার্নাররা আগে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়ে ক্যারিবীয়দের উজ্জীবিত করে দিলেন, ভয় ছড়ালেন টাইগার শিবিরে! সোমবার এ মাঠেই ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে নামছে যে মাশরাফিরা।
সেই মিশনে গতকালই ব্রিস্টল ছেড়ে টন্টন গেছেন ক্রিকেটাররা। আড়াই ঘণ্টা বাস ভ্রমণের পথ হলেও ছিল না দলের প্র্যাকটিস সেশন। যেহেতু ভ্রমণে কেটে গেছে এক বেলা, তাছাড়া এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল, তাই বিশ্রামে ছিল দল। এমনকি আজও পুরো দলের ছুটি! তবে কেউ চাইলে নিজ উদ্যোগে প্র্যাকটিস সেরে নিতে পারেন নিজের মতো করে। দুই দিন বিরতি দিয়ে ১৪ জুন টন্টনের সামারসেট কাউন্টি ক্রিকেট মাঠের কমিউনিটি ক্লিনিকে অনুশীলন শুরু করবেন টাইগাররা।
এর মধ্যে নিজের নৈপুণ্য প্রশ্নের মুখে পড়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। ‘নিজের বোলিং কোটা পূরণ করছেন না, ম্যাচে আসলে আপনার ভূমিকা কী’, শ্রীলঙ্কান এক গণমাধ্যম কর্মী প্রশ্ন করেছিলেন পরশু। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অসংখ্য ম্যাচে দলকে সাফল্য এনে এখন এমন তেতে প্রশ্ন শুনতে কেমন লাগে? মাশরাফি অবশ্য স্বাভাবিক হিসেবেই নিচ্ছেন সব, বরং সেরাটা দিতে না পারায় এমন প্রশ্নের জন্যই নাকি প্রস্তুত তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ ওভার বল করে ৪৯ রান দিয়ে আর আক্রমণে আসেননি মাশরাফি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ওভারে ৩২ রান দেওয়ার পর নিজেকে আনেননি আক্রমণে। শুধু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বোলিং কোটা পূরণ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। সেদিন শুরু থেকেই বেশ ভালো বল করছিলেন, ম্যাচের পরিস্থিতিতে ৯ ওভারে ৫০ রান দিয়ে ১ উইকেট ছিল বেশ ভালোই। কিন্তু শেষ ওভারে ১৮ দিয়ে দিলে বোলিং ফিগার কিছুটা খরুচে হয়ে যায়। কেন আগের দুই ম্যাচে বোলিং কোটা পূরণ করলেন না, ব্যাখ্যায় অধিনায়ক বোঝান সেসব ম্যাচের পরিস্থিতি, ‘গত ৪-৫ বছরে নিজের অধিনায়কত্বে বহুবারই বোলিং কোটা পূরণ করিনি, এটা নির্ভর করে মাঝের ওভারে কারা ভালো করছে তার ওপর। প্রথম দুই ম্যাচে মোসাদ্দেক জুতসই বোলিং করেছে দলের জন্য। এটাই ভাবনা থাকে। গত ম্যাচে আমি আমার কাজ করেছি।’ গত ম্যাচে তিনি তার কাজটা করেছিলেন, তবু কথা উঠছে। সেরাটা দিতে না পারায় এসব কথায় আপত্তি নেই মাশরাফির, হতাশও নন, ‘পেশাদার জীবনে সেরাটা দিতে না পারলে এমন প্রশ্ন করা হবে, স্বাভাবিক। এটা গ্রহণও করতে হবে।’ সমালোচনা করছে, মাশরাফিও নিজের ওপর সন্তুষ্ট নন। মানুষের কথায় কান না দিয়ে বরং নিজে কী অনুভব করছেন, তার ওপর ভরসা রাখতে চান।