আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

রিজার্ভ ডে

অবশেষে মুখ খুলেছে আইসিসি

স্পোর্টস রিপোর্টার
| খেলা

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি ছিল চলতি বিশ্বকাপের ১৫তম। বৃষ্টির কারণে এ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়েছে তিনটি ম্যাচ। ইংল্যান্ডের আবহাওয়া বলছে, গ্রুপ পর্বের আরও বেশ কিছু ম্যাচের দিন আছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমপর্বে বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস আক্ষেপ করে বলেই ফেললেন, ‘মানুষকে চাঁদে পাঠাতে পারলে বিশ্বকাপে রিজার্ভ ডে রাখা যাবে না কেন! তার মতো আক্ষেপ আছে সমর্থকদেরও। এত অভিযোগের জবাবে মুখে খুলেছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন বলেন, ‘বিশ্বকাপের দৈর্ঘ্য যেন বেশি লম্বা না হয়, এজন্যই রাখা হয়নি রিজার্ভ ডে।

ব্রিস্টলে গেল শুক্রবার বৃষ্টির কারণে মাঠে গড়ায়নি পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। পরশু ব্রিস্টলেই সারা দিনই থেমে থেমে বৃষ্টিতে একটি বল হয়নি বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচেও। মাঝে সাউদাম্পটনে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেও হানা দিয়েছিল বৃষ্টি, সেই ম্যাচে খেলা হয়েছে মাত্র ৭.৩ ওভার।
তবে ১৯৯৯ সালে শেষবার যখন ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ হয়, সেবার ছিল রিজার্ভ ডে। ২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপেও ছিল এ নিয়ম। পরিসংখ্যান বলছে, বৃষ্টির কারণে এর আগে কোনো বিশ্বকাপই এতটা ‘ক্ষতির’ মুখে পড়েনি। এক সপ্তাহে ব্রিস্টলে একটি বল মাঠে না গড়িয়েই পরিত্যক্ত হয়েছে দুটি ম্যাচ। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত হয়নি তিন ম্যাচ, যা এক বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ১৯৯২ ও ২০০৩ সালে দুটি করে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। 
যেখানে ইংল্যান্ডের বেশ কিছু জায়গায় ম্যাচের সময় বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে, তাহলে আইসিসি রিজার্ভ ডে রাখেনি কেন? রিচার্ডসন বলছেন, এমনিতেই টুর্নামেন্ট চলবে ৪৫ দিন, সেখানে রিজার্ভ ডে রেখে সেটাকে আর বাড়াতে চাননি তারা, ‘প্রতি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য আরও বেড়ে যেত। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপ আয়োজন করা অনেক বেশি জটিল হয়ে দাঁড়াত। পিচ প্রস্তুতি, দলগুলোর বিশ্রাম, ভ্রমণ, হোটেলের বুকিং, ভেন্যুর প্রাপ্যতা, টুর্নামেন্টের স্টাফ, অফিশিয়ালদের তৈরি থাকা, স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ ও সম্প্রচারে বিঘœ ঘটত। আর রিজার্ভ ডেতে যে বৃষ্টি হবে না, তার নিশ্চয়তা কী?’
নির্ধারিত দিনে ম্যাচ আয়োজনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছে আইসিসি, দাবি রিচার্ডসনের, ‘১২০০ মানুষ নিজেদের সবটুকু দিয়ে ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছে। রিজার্ভ ডে থাকলে আরও অনেক বেশি মানুষের দরকার হতো। নকআউট পর্বের জন্য আমরা রিজার্ভ ডে রেখেছি। কারণ গ্রুপ পর্বের দৈর্ঘ্য এমনিতেও অনেক লম্বা।’