আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

‘উচ্চ মূল্যের ফসলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
| অর্থ-বাণিজ্য

লাভজনক কৃষির কথা মাথায় রেখে উচ্চ মূল্যের ফসল আবাদের প্রতি ?গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। উচ্চ মূল্যের কাজু বাদাম পুষ্টিকর এবং উৎকৃষ্ট শিশু খাদ্যও বটে, যার চাহিদা বিশ্বে দিনে দিনে বাড়ছে। এর একেকটি গাছ ৫০ কেজি করে গ্রিন হাউস গ্যাস (কার্বন ডাই-অক্সাইড) শোষণ করে। বাদাম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণে জনবলের প্রয়োজন বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান হবে। বুধবার কৃষিমন্ত্রী ড.  মো. আবদুর রাজ্জক এমপি মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে কাজুবাদাম উৎপাদনকারী, প্রক্রিয়াজাতকারী ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মো. হারুন। 

তারা বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বান্দরবানের রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি ও সদর উপজেলা, খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রা ৮০ হাজার মেট্রিক টন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ কোটি গাছ রোপণ করে ২ লাখ হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনা হবে। এতে করে উৎপাদন হবে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য ২৬ হাজার কোটি টাকা। নিজেদের প্রসেসিং কারখানা থাকলে এবং প্রসেসিং করে রপ্তানি করা গেলে এ অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে তারা জানান । 
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় কৃষকের লাভের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। কাজুবাদাম আবাদ মোটামুটি সহজ। এটি চাষের ক্ষেত্র প্রসারিত করার পরামর্শ দেন তিনি। ভিয়েতনাম থেকে উচ্চ ফলনশীল জাতের চারা আমদানির ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে কাজুবাদাম চারায় সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। প্রক্রিয়াজাতসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানান। প্রয়োজনে খামারিদের বিদেশে অভিজ্ঞতা অর্জন ও প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে। 
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ভিয়েতনাম ১৯৮৮ সালে কাজুবাদাম চাষ শুরু করে এবং ১৯৯৮ সালে বাণিজ্যিক চাষে গিয়ে আজ তারা বিশ্বে ১ নম্বর হলে আমরা কেন পারব না। কৃষি পণ্যটি রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্ভাবনাময় এসেছে এ কৃষি পণ্যটি। 
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শফিক উদ্দিন, কাজী শাহাদাত হোসেন, মো. মহিউদ্দিন, মো. কামাল উদ্দিন, সাইফুদ্দিন হাসান এমডি মেঘা অ্যাগ্রো প্রোডাক্ট, শাহ সিরাজুর রহমান, রেজাউল করিম-সহযোগী অধ্যাপক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নুরুল আফসার, মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুমা, থানচি এবং মু. আবদুস ছালাম সাধারণ সম্পাদক।