আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

ক্ষুণ হচ্ছে ভাবমূর্তি ও শোভা

জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘিরে বাণিজ্য

মো. মামুন মোল্লা, আশুলিয়া
| নগর মহানগর

ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘিরে ভিতরে ও বাইরে চলছে নানারকম বাণিজ্য। সেখানে বসেছে দোকানপাট। সৌধের ভেতরেই ব্যবসা করে প্রায় তিন শতাধিক হকার। এতে বন্ধ হয়ে গেছে দর্শনার্থীদের চলাচলের রাস্তা। অন্যদিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধের লেকের পানিতে মাছ চাষের কারণে বিলীনের পথে রক্ত শাপলা, যা ছিল স্মৃতিসৌধের শোভাবর্ধনের মূল উপকরণ। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন স্টাফ বলেন, সব কিছুর জন্য স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মিজানুর রহমান স্যারই দায়ী। কারণ ওনার নির্দেশ ছাড়া স্মৃাতসৌধের গাছের একটা পাতাও নড়ে না। আগে আমরা শাপলার মোতা সংরক্ষণ করে কাদার মধ্যে পুঁতে রাখতাম সেখান থেকে গাছ হতো এবং শাপলা ফুল ফুটত; কিন্তু এখন আর সেটা করা হয় না। কারণ লেকে এসও মিজান স্যার মাছ চাষ করতে শুরু করেছে, যা আগে কেউ করেনি। 
শুধু তাই নয়, স্মৃতিসৌধের আনসার, পুলিশ অনেক দর্শনার্থী ছেলেমেয়েকে ভয় দেখিয়ে তাদের হাতে সর্বস্ব তুলে দিতে বাধ্য করে। আবার কেউ যদি তাদের প্রস্তাব মেনে না নেয় তাহলে তাদের পুলিশ বা আনসার ক্যাম্পে ধরে নিয়ে চালান করে দেবে বলে ভয় দেখায়। তারা আরও বলেন, আনসার ও পুলিশের এ অপকর্মের কথা এসও মিজানকে জানালে তিনি বলেন, এটা তোমাদের ডিউটি না, তোমাদের ডিউটি তোমরা করো।   
এ বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে এসও মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গত বছর থেকে মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ চাষের বিষয়টা আমার এসি, এক্সচেইনসহ সবাই জানে। আর শাপলার বিষয়টা হচ্ছে পানিতে অধিক কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে শাপলা বিলুপ্ত হচ্ছে। দোকানপাট, হকার ও ফকিরের যে বিষয়টা উঠছে, আপনি জানেন হয়তো বা আগের তুলনায় এখন অনেকটাই কম।’ তবে এর আগে মাছ চাষ ও বিক্রির কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য সাভার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবীর মুঠোফোনে তার কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।