আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

আরাফাত হাসপাতালে রক্ত কেলেংকারি

খুলনার আলোচিত ভুয়া চিকিৎসক লাপাত্তা!

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা
| নগর মহানগর

পায়ে ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া ফাতেমা বেগম নামের রোগীর শরীরে ‘বি নেগেটিভ’ রক্তের পরিবর্তে ‘ও পজেটিভ’ রক্ত পুশের চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকে খুলনা নগরীর শিপইয়ার্ড রোডস্থ আলোচিত আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কথিত ডাক্তার মো. কামরুজ্জামান গা-ঢাকা দিয়েছেন। মঙ্গল ও বুধবার ওই হাসপাতালে গিয়ে কামরুজ্জামানসহ কাউকেই পাওয়া যায়নি। ফলে হাসপাতালে বিভিন্ন গুরুতর রোগে ভর্তি হওয়া তিনজন রোগীর চিকিৎসা নিয়ে স্বজনরা সংকটে পড়েছেন।
এদিকে স্থানীয় যুবলীগ পরিচয়ধারী সুমনসহ কতিপয় দালাল ক্লিনিক মালিক কামরুজ্জামানের পক্ষ থেকে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি তারা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম ব্যবহার করেও এ বিষয়ে প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের কোনো ধরনের তথ্য না দিতে রোগীর স্বজনদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। 
অপরদিকে, ভুল রক্ত পুশের শিকার রোগী ফাতেমা বেগম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। 
রোগী ফাতেমা বেগমের ছেলে শেখ সোহাগ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, তার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হয়েছে। পেশাব লাল রং ধারণ করেছে। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের কোনো ধরনের তথ্য না দিতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। 
রোগীর বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. এসএম কামাল হোসেন বলেন, এখন রোগীকে ফলোআপে রাখা হয়েছে। ভুল রক্ত পুশের কারণে তার শরীরে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি পেশাব ঠিকমতো না হওয়াসহ কিডনি, হার্ট ও ফুসফুসেও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কথিত ডাক্তার মো. কামরুজ্জামান রূপসা আনসার ক্যাম্প এলাকায় বসবাস করেন। তিনি এর আগে নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন একটি ক্লিনিকে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে বের হয়ে আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেন। তিনি নিজেই চিকিৎসা করে থাকেন। গ্রামের রোগীরাই তাদের প্রধান টার্গেট। এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত একাধিকবার ওই ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে সীলগালা করে বন্ধ করে দেয়। এমনকি কামরুজ্জামানকে এক বছরের কারাদ-ও দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে আবারও সবকিছু ম্যানেজ করে সে অপচিকিৎসা শুরু করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিন আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে বিভিন্ন গুরুতর রোগে ভর্তি হওয়া তিনজন রোগী বিনা চিকিৎসায় যন্ত্রণায় ভুগছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, স্টাফ কেউ নেই। এ কারণে স্বজনরা রোগীদের অন্যত্র নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক পর্যায়ে আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কথিত ডাক্তার মো. কামরুজ্জামানের চেম্বারের ওপরে তার নামের নিচে ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক চেম্বার অব কমার্স’ লেখা দেখা যায়। তবে তিনি কোন চেম্বার অব কমার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার কোনো ব্যখ্যা পাওয়া যায়নি। 
আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের (বাড়িওয়ালা) ‘রোকেয়া মঞ্জিলের মালিক মো. হাফিজুর রহমান খান অভিযোগ করেন, ভাড়াটিয়া কামরুজ্জামানের এসব অপচিকিৎসার কারণে তারাও অতিষ্ঠ। এ কারণে একাধিকবার তাকে বাড়ি ছাড়তে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে রয়ে গেছে। এমনকি ভাড়া বাবদ তার পাওয়া প্রায় ৪ লাখ টাকাও সে পরিশোধে টালবাহানা করছে বলেও জানান তিনি।