আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

অস্ট্রেলিয়া ৩০৭ (৪৯ ওভার) পাকিস্তান ২৬৬ (৪৫.৪ ওভার)

নাটকীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

আহসান হাবিব সম্রাট
| প্রথম পাতা

পাকিস্তানি বোলার মোহাম্মদ আমির ও অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কেরির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। বুধবার ইংল্যান্ডের টন্টনে ষ ক্রিকইনফো

মোহাম্মদ আমিরের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের দিনে টন্টনে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর নাগালেই রেখেছিল পাকিস্তান। ব্যাট হাতে আশার মশাল জ্বেলেছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ, সরফরাজরা। কিন্তু বারবার রং বদলের ম্যাচে স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারেননি পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা। ৩০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৬৬ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৪১ রানের জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। চার ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের দল। সমান ম্যাচে দুই হার ও এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে পাকিস্তান।

৬ উইকেটে ১৬০ রান হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই পড়েছিল পাকিস্তান। হারের ব্যবধান কত বড় হতে পারে, সেই অনুমানই করছিলেন অনেকে। ওই অবস্থা থেকে সবাইকে চমকে দিয়ে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল পাকিস্তান। প্রথমে হাসান আলীর ক্যামিও, এরপর ওয়াহাব রিয়াজ শুরু করলেন পাল্টা আক্রমণ। সরফরাজের সঙ্গে 

ওয়াহাব রিয়াজের জুটি জয়ের স্বপ্ন জাগিয়েছিল। কিন্তু তীরে এসে আর তরী ভেড়ানো হলো না। একটা রিভিউই ঘুরিয়ে দিল ম্যাচের মোড়! মিচেল স্টার্কের বলটা অ্যালেক্স ক্যারি ধরার পর আপিল করলেন ফিঞ্চরা, কিন্তু তাতে জোর ছিল না খুব একটা। সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে রিভিউ নিলেন ফিঞ্চ, আল্ট্রাএজে ধরা পড়ল হালকা এজ। ৩৯ বলে ৪৫ রান করে ফিরলেন ওয়াহাব, জয় থেকে তখন পাকিস্তানের দূরত্ব ৪২ রান। ম্যাচের রোমাঞ্চ ওই ওভারেই শেষ করে দিলেন স্টার্ক। মোহাম্মদ আমির সেই ওভারেই আউট। শেষ উইকেটে শাহীন শাহ আফ্রিদিকে নিয়ে সরফরাজের লড়াইও বেশিক্ষণ হলো না। সরফরাজের (৪০) রান আউটে ৪.২ ওভার বাকি থাকতেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ।
পাকিস্তানের শুরুটাও ভালো হয়নি। ফাখার জামান যখন তৃতীয় ওভারে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিলেন, স্কোরবোর্ডে উঠেছে ২ রান। আর ফাখার নিজে করেন শূন্য। তবে বাবর আজম এসেই নিজের মতো খেলতে শুরু করেন। দ্রুত পৌঁছে গেলেন ২৮ বলে ৩০ রানে, কিন্তু পুল শট খেলতে গিয়েই সর্বনাশ। কোল্টার নাইলের বলে ক্যাচ দিয়েছেন ডিপ স্কয়্যার লেগে। পাকিস্তানের সত্যিকারের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু এর পরই। ইনিংসের হাল ধরেন ইমাম উল হক ও মোহাম্মদ হাফিজ। ইমাম একটু শ্লথ হলেও হাফিজ খেলছিলেন দারুণ। ১১১ বলে পাকিস্তানকে দুজন এনে দিলেন ১০০ রান। দুজনের জুটিও হয়ে গেল ৮০ রানের, এর মধ্যে ফিফটিও হয়ে গেল ইমামের। কিন্তু এর পরই দিয়ে এলেন উইকেট। লেগ স্ট্যাম্পের ওপর রাখা কামিন্সের শর্ট বলে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ইমাম ৭৫ বলে করেন ৫৩। পরের ওভারেই ইমামকে অনুসরণ করে সাজঘরে ফেরেন হাফিজ। স্টার্কের ফুলটস বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ফিঞ্চের তালুবন্দি হওয়ার আগে ৪৯ বলে ৪৬ করেন হাফিজ। নতুন ব্যাটসম্যান শোয়েব মালিক রানের খাতা খোলার আগেই কামিন্সের বলে উইকেটে পেছনে ধরা পড়েন। রিচার্ডসনের বলে একইভাবে বিদায় নেন পরের ব্যাটসম্যান আসিফ আলিও (৫)। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্যাট কামিন্স ৩ রানে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন। দুর্দান্ত সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচসেরা হন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। 
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নারের ১৪৬ রানের জুটিতে দাপুটে শুরু করেও মোহাম্মদ আমিরের বোলিংতোপে পুরো ৫০ ওভার খেলতে পারেননি অজিরা। বাঁ-হাতি এ পেসারের নৈপুণ্যে ভর করে পাকিস্তান শেষ ১০ ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। ফলে ওয়ার্নারের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ৪৯ ওভারে ৩০৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই মারমুখী ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার আর অ্যারন ফিঞ্চ উইকেটের চারদিকে শটের পসরা সাজিয়েছেন। মাত্র ২২ ওভারেই তারা তুলে নেন ১৪৬ রান। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এ জুটি ভেঙে পাকিস্তানকে ব্রেক থ্রুু এনে দেন আমির। ২৩তম ওভারে এসে প্রথম বলেই ফিঞ্চকে কভারে হাফিজের ক্যাচ বানিয়ে ভাঙেন অজিদের ওপেনিং জুটি। ৮২ রানে ফেরেন ফিঞ্চ। তার ৮৪ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল ছয়টি ৪ আর চারটি ছক্কার মার। অজিরা দ্বিতীয় উইকেট হারায় দলীয় ১৮৯ রানের মাথায়। ইনফর্ম ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথকে (১০) এক্সট্রা কভারে আসিফ আলির ক্যাচ বানান বোলার মোহাম্মদ হাফিজ। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে এগোতে থাকেন ওয়ার্নার। তবে বেশি দূর এগোতে পারেনি এ জুটি। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ১০ বলে ২০ রান করা ম্যাক্সওয়েল। ইনিংসের ৩৬তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ওয়ার্নার। এর আগে ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ৯৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ওয়ার্নার। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩ অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। দলীয় ২৪২ রানের মাথায় ওয়ার্নার বিদায় নেওয়ার আগে ১১১ বলে ১১টি চার আর একটি ছক্কায় করেন ১০৭ রান। ৪২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৪ উইকেটে ২৭৭। হাতে ৮ ওভার আর ৬টি উইকেট। ৩৫০ করা কঠিন ছিল না। কিন্তু পরের ৭ ওভারে ওই ৬টি উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩০ রান তুলতে পারে অ্যারন ফিঞ্চের দল। এ ৬ উইকেটের ৪টিই নিয়েছেন পেসার মোহাম্মদ আমির। শন মার্শ ২৬ বলে করেন ২৩ রান। উসমান খাজা ১৬ বলে করেন ১৮ রান। অ্যালেক্স ক্যারি ২১ বলে করেন ২০ রান। পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে আমির ১০ ওভার বোলিং করে ৩০ রানে ৫ উইকেট দখল করেন। ২টি উইকেট পেয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান আলি, ওয়াহাব রিয়াজ এবং মোহাম্মদ হাফিজ।