আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

সমীকরণ কঠিন করে দিল বৃষ্টি

শফিক কলিম
| প্রথম পাতা

চার ম্যাচ শেষ, অর্জন তিন পয়েন্ট, ১০ দলের মধ্যে সাত নম্বরে বাংলাদেশ; বাকি পাঁচ ম্যাচ থেকে অন্তত আট পয়েন্ট না হলে নিশ্চিত হবে না সেমিফাইনাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা যেমন আছে, শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকা ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ম্যাচ বাকি। এই পাঁচ ম্যাচে অন্তত চারটি জেতা বাস্তব প্রেক্ষাপটে শক্ত চ্যালেঞ্জই। ১৭ জুন টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের ম্যাচ বাংলাদেশের। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এ ম্যাচটা বাংলাদেশের অনেকটা বাঁচা মরার লড়াইয়ের মতোই।

বিশ্বকাপে দলের লক্ষ্যের কথা ভাবলে ফলের দিক থেকে প্রথম অংশে বাজে যায়নি; দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের একটিতে জয়। বাস্তবতাকে সম্ভাব্য ধরে পরিকল্পনা ছিল প্রথম তিন ম্যাচে অন্তত একটি জয় এলে পরের দিকে যদি হারানো যায় চার দলকে, তার পর অন্যান্য ম্যাচের ফল, কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া মিলিয়ে শেষ চারের দুয়ার খুলে যেতে পারে! প্রোটিয়াদের হারিয়ে তুলেও নিয়েছিল জয়।

শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে কিছু করার তাড়না এক রকম; আবার জিততেই হবে, এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপ নিয়ে মাঠে নামা আরেক রকম। ব্রিস্টলে পরশু দুই পয়েন্ট প্রত্যাশার শ্রীলঙ্কা ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় মাশরাফিদের এখন বইতে হবে সেই ভার, সামলাতে হবে চাপও। বিশ্বকাপের মঞ্চে সহজ হবে না আসলে কোনো ম্যাচই। সব দলেরই আছে লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও শক্তির জায়গা। তারাও নিশ্চয়ই সম্ভাব্য জয়ের তালিকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি রেখেছে, ছক কাটছে; কঠিন লড়াইয়ের জন্যই তৈরি থাকতে হবে দলকে।

২০ বছর পর আতুরঘরে ফেরা ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মূল লড়াই শুরু হয়েছে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে; প্রত্যাশা শ্রীলঙ্কাসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বেশ কয়েকটি দলকে হারানো! সবশেষ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হতাশার পরও বলা যায় প্রথম তিন ম্যাচ থেকে প্রত্যাশা মোটামুটি পূরণ হয়েছিল বাংলাদেশের। ভবিষ্যৎ বললে প্রত্যাশিত জয়গুলো তুলে নেওয়ার সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কা ম্যাচে।
র‌্যাঙ্কিং, শক্তি, সাম্প্রতিক ফর্ম সবই ছিল বাংলাদেশের পক্ষে, তাই এ ম্যাচে পয়েন্ট হারানো মানে শেষ চারের সমীকরণ কঠিন হয়ে যাওয়া। ম্যাচ পূর্ব গণমাধ্যম পর্ব শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘ভাই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৭০ করলেও জিততাম, সেদিন জিতলে আর বৃষ্টি নিয়ে ভাবা লাগত না।’
সত্যি, বৃষ্টি এখন সেমিফাইনালের সমীকরণ বেশ শক্ত করে দিল বাংলাদেশের। চার ম্যাচে মাশরাফিদের পয়েন্ট তিন, সমান ম্যাচে লঙ্কানরা পেল চার পয়েন্ট। দলটি বিশ্বকাপে গেছে র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের নিচে থেকে, ফলে ব্রিস্টলে ফেভারিট ছিল বাংলাদেশ। ১৭ জুন টনটনে প্রতিপক্ষ র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও নিচে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এসেছে বাছাই খেলে! দুই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ড দারুণ। শ্রীলঙ্কার নৈপূণ্য আহামরি চোখে না পড়লেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ আগুন ছড়াচ্ছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে আরও নিচে থাকা আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের ঠিক ওপরে থাকা পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ও প্রত্যাশিত।
দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার এত বেশি ভাবতে নারাজ। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের খেলা থাকায় গতকাল ঢাকার ফিরতি বিমানে চড়েছেন এ নির্বাচক, আর ইংল্যান্ডে গেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। ইংল্যান্ড ছাড়ার আগে হাবিবুলের বার্তা, ‘এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচকেই আবশ্য জয়ের ম্যাচ ধরে মাঠে নামা। আক্ষেপ করলে শুধু সেটা বাড়বেই। কিন্তু সে সবে কোনো লাভ নেই। এবার ফরম্যাট অনেক কঠিন, আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ বরাবরই কঠিন ছিল। এখানে আসলে কোন দলকে হারাব, কোন দলের সঙ্গে পারব না, এভাবে টার্গেট করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে এখন থেকে যদি সামনে তাকাই, সব ম্যাচই জিততে হবে, এ মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’ সেই মানসিকতার ছাপ রাখতে চান মাশরাফি। বদলে যাওয়া সমীকরণের হিসাব মেলাতে কোনো কমতি রাখতে চান না অধিনায়ক, ‘প্রতি ম্যাচেই আমরা জয়ের জন্যই নামি। তার মধ্যেও কিছু হিসাব থাকে, কোন ম্যাচে জয়টা বেশি সম্ভব, কোন ম্যাচে কম। হিসাব থেকে একটি ম্যাচ ছুটে গেল, এখন হিসাবের বাইরে থেকে একটি জিততে হবে। লড়াই হবে ইনশাল্লাহ।’
মূল মিশনের শুরুতে হোচট; বৃষ্টিতে ভেসে গেছে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান ব্যর্থ হবে, নাকি এগোবে লক্ষ্য পূরণের দিকে, নির্ধারণ করে দেবে আসলে এই ধাপের ম্যাচগুলোর ফলই।