আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৩-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধস

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক

এএইচএম আরিফ, কুষ্টিয়া
| দেশ

সদ্য নির্মিত কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে ধস- আলোকিত বাংলাদেশ

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণসহ পুনর্নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অথচ সামান্য বৃষ্টির পানির তোড়ে অনেক স্থানে সড়কের দুই পাশ ধসে পড়েছে। ভেঙে পড়া এসব খানাখন্দ এখন মাটি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা চলছে। সড়কের পাড় ভেঙে পড়ায় পথচারী ও যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, আহলাদিপুর-রাজবাড়ী পাংশা-কুমারখালী-কুষ্টিয়া (চড়হাস) পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ, মজবুতীকরণ, হার্ডসাল্ডার নির্মাণ, দুইটি কালভার্ট ও সার্ফসিংসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খাতে ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু করা হয়। ২০১৮ সালের ৮ মার্চের কার্যাদেশ অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে ১৮ ফুট চওড়া সড়কটির দুই পাশ আরও ৬ ফুট প্রশস্তকরণসহ সিলকোট, দুটি কালভার্ট নির্মাণ ও ১ হাজার মিটার প্যালাসাইডিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজ ও ঠিকাদারের গাফিলতিতে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্নের পথে এগোলেও ক’দিন আগের সামান্য বৃষ্টির পানিতে অনেক স্থানে দুই পাশের বালু ধসে পড়েছে। এতে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টিসহ সদ্য নির্মিত সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে গেছে। কুষ্টিয়ার চড়হাস মোড় থেকে কুমারখালী পর্যন্ত কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের দুই পাশের দেড় শতাধিক স্থান ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিডিউল মোতাবেক কমপক্ষে ৩ ফুট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত শক্ত মাটি ভরাট ও কমপ্যাক্ট করার পর সোল্ডার নির্মাণের বিষয়টি অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। সড়কের পাশ মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে ভরাট করার ফলে সামান্য বৃষ্টির পানি এতে ধসে নামিয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ার বাসিদা আবদুর রহিম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে সংস্কার ও উন্নয়নে ত্রুটিপূর্ণ কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযাগ্য নয়। উন্নয়নমূলক এ কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে জনগণের দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিসহ সরকারের আর্থিক ক্ষতি বাড়বে। তিনি প্রকল্পের কাজটি যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানান। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্ব¡াবধানে প্রকল্পের কাজ ঠিকাদারদের সম্পন্নের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের বর্ধিত অংশের দুই পাশ ভাঙনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বৃষ্টির আগে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মাটি ধসে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সড়কের ভাঙন সংস্কারসহ প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে বলে এ নির্বাহী প্রকৌশলী জানান।