আজকের পত্রিকাআপনি দেখছেন ১৬-০৬-২০১৯ তারিখে পত্রিকা

দিনাজপুরে জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচন

মূল কারণ টাকা ধার দেওয়া

দিনাজপুর প্রতিনিধি
| দেশ

দিনাজপুরে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। টাকা ধারকে কেন্দ্র করে জোড়া খুনের ঘটনায় আটক এক যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কারণ জানা গেছে। শনিবার দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম সাংবাদিকদের কাছে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের রহস্যের কথা প্রকাশ করেন। পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ জুন বীরগঞ্জ উপজেলার শালবন থেকে নিহত দুই যুবকের বন্ধু বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রামের (পালাপাড়া) মো. গিয়াসউদ্দিনের ছেলে মো. তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। আটকের পর পুলিশের কাছে তরিকুল জোড়া খুনের ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ১৪ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বিচারককে জানান। নিহত দুই যুবক হলেন অনির্বাণ ওষুধ কোম্পানির সাবেক প্রতিনিধি হানিফুর রহমান ও দেবীপুর খোলাকুটি বাজারের কম্পিউটারের দোকানদার বিপ্লব চন্দ্র রায়। পুলিশ সুপার বলেন, টাকা ধার দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। জবানবন্দিতে খুনি তরিকুল জানান, ঘটনার আগের দিন ২৯ মে দুপুর ২টায় বীরগঞ্জ বাজারে ঝারবাড়ি থেকে নিহত দুই যুবক তারে সঙ্গে একত্রিত হয়ে নীলফামারী জেলার দেবীগঞ্জ বাজারে যান। সেখানে আসামি তরিকুল বাজার থেকে একটি ধারালো অস্ত্র কিনে কোমরে লুকিয়ে নেন। এরপর রাত সোয়া ৯টায় দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ফেনসিডিল সেবন করেন তারা। রাত ২টার দিকে তিনজন মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থল দেবীপুর গ্রামের বালাপাড়ার যদুর মোড়ে যাওয়ার জন্য রওনা হন। ঘাতক তরিকুল মোটরসাইকেলের সবার শেষে বসে থাকার সুবাদে ঘটনাস্থলে প্রথমে মোটরসাইকেলের অপর আরোহী বিপ্লবের গলায় ধারালো চাকু দিয়ে কয়েকটা টান দেন এবং মোটরসাইকেলের চালক হানিফের গলায়ও চাকু দিয়ে টান দেন। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল থেকে তিনজন পড়ে যান। পরে আসামি তরিকুল মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যান। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুলিশ ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে।